সাভারে একটি পোশাক কারখানার তিন কর্মকর্তা ও কথিত প্রেমিকের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কিশোরী নাজমা (১৪) সোমবার (৭ জানুয়ারি) সকালে মারা গেছে। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ—ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী তার বাবার সঙ্গে থানায় গিয়ে অভিযোগ করলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। তবে মারা যাওয়ার পর নাজমার লাশ উদ্ধারসহ ধর্ষণ ও হত্যার মামলা নেয় পুলিশ। আশুলিয়ার গোড়াট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
আশুলিয়া থানার (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, ‘আশুলিয়া থানা পুলিশের কোনও সদস্য যদি এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাজমা আশুলিয়ার বেরন এলাকায় ইয়াগী বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় অপারেটর হিসেবে কাজ করতো।
নাজমার বাবা হানিফ আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পাঁচ বখাটে মিলে নির্যাতন করেছে। এ ঘটনার পর নাজমা নিজে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে। কিন্তু পুলিশ সেই অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো সাক্ষী নিয়ে যেতে বলে।
ক্ষোভের সঙ্গে হানিফ আলী বলেন, ‘পুলিশ অভিযোগ আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে আমার মেয়ে প্রাণে বেঁচে যেত।’
ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গত শনিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইয়াগী বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেড ছুটির পর নাজমা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় তার প্রেমিক রহিম তাকে পাশের একটি খালি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে রহিম এবং ওই কারখানার লাইন চিফ রিপন, স্টাফ ইব্রাহিম খলিল ও শিপনসহ চারজন মিলে নাজমার ওপরে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে নাজমা অচেতন হয়ে পড়লে তারা তাকে ফেলে রেখে যায়। পরদিন সকালে নাজমা নিজে আশুলিয়া থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এদিকে, সোমবার (৭ জানুয়ারি) সকালে নাজমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিসৎক রাজিব সুত্রধর বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে পথেই ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়।’ তবে কী কারণে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করেছেন।’
তাকে প্রথমে কেন হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো না জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করবে এমন কোনও নিয়ম নেই। নির্যাতনের শিকার কিশোরীর পরিবারও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারতো।’