গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সোমবার (৭ জানুয়ারি) কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বেলা ১২টার দিকে পুলিশ সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয় শ্রমিকদের। এতে পুলিশসহ কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে বলে পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বললে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে পুলিশ টিয়ার সেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এসময় পুলিশের চার সদস্য আহত হন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বেলা ১২টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়।’  

পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাইনবোর্ড এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট গ্রুপের কয়েকটি পোশাক কারখানার অপারেটর ও শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের কাছে গত কয়েকদিন ধরে সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাড়া না দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে সোমবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে তারা কারখানা থেকে রাস্তায় নেমে আসে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে কুনিয়া এলাকার লিজ ফ্যাশন ও রূপা গার্মেন্টসসহ  বোর্ডবাজার, কুনিয়া তারগাছ ও ছয়দানা এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা এই বিক্ষোভে যোগ দেয়। এসময় মহাসড়ক অবরোধের কারণে যানবাহন আটকা পড়ে উভয়দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সাইনবোর্ড এলাকায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বললে তারা নির্দেশনা না মেনে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুলিশের চার সদস্যসহ কমপক্ষে ১৪ জন ব্যক্তি আহত হন।

সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয় পুলিশ

এদিকে প্রায় একই সময়ে একই দাবিতে সাতাইশ এলাকার ভিয়েলা টেক্স পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে।

ইস্ট-ওয়েস্ট পোশাক কারখানার সুইং অপারেটর মরিয়ম আক্তার জানান, সরকার ঘোষিত ন্যূনতম বেতন ৮ হাজার টাকা হেলপারদের দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই হারে অপারেটরদের বেতন বৃদ্ধি করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। অপরেটররা তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তপক্ষ তা না মানায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে অপরেটররা।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইস্ট-ওয়েস্ট কারখানা ব্যবস্থাপক মো. শামীমসহ কয়েকটি কারখানার কর্মকর্তারা। তারা জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বেতন ভাতা শ্রমিকদের দিচ্ছে। কিন্তু বহিরাগত কিছু শ্রমিক বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের জোর করে কারখানা থেকে বের করে নিয়ে সড়কে গণ্ডগোল করেছে। ভুল ধারণা থেকে শ্রমিকরা অযৌক্তিকভাবে এ আন্দোলন করছে। সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোয় পোশাক কারখানার সিনিয়র-জুনিয়র অপারেটরদের মূল বেতনসহ আনুষঙ্গিক খাতের ভাতাদি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের আগের ঘোষিত গেজেটে কর্মীদের দক্ষতা অনুযায়ী তাদের গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের বেতন ভাতা কম দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বেতনের টাকা হাতে পেলেই শ্রমিকদের ভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে।

তারা আরও জানান, বেতন ভাতা বৃদ্ধি হয়নি বলে গুজব ছড়িয়েছে কোনও একটি মহল। এ কারণে কয়েকদিন ধরেই শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করছে।