লাঞ্ছনার শিকার চাঁদনী বেগম বলেন, ‘গত শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে মলদ্বারের সমস্যা নিয়ে তিন বছরের ছেলে আলিফ আনসারিকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতে তাকে পাঠানো হয় শিশু মেডিসিন ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তির কাগজ দেখে আমার ছেলেকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু আমার ছেলেতো পাতলা পায়খানা করে না তাহলে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কেন নেবো, এ কথা বলার পর চিকিৎসকরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসা না করে চলে যান।’
তিনি অভিযোগ করেন, “হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে আসার পর থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরপাক খেয়েছি। কিন্তু শিশুর চিকিৎসা হয়নি। আমার ছেলের কষ্ট দেখে আমি মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। তাই রাগ করে হাসপাতালকে ‘পাগলা গারদ’ বলি। তখন শিশু মেডিসিন ওয়ার্ডে থাকা সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. হাসান ভূঁইয়া ফয়সাল ও শিবলী আমার চুলের মুঠি ধরে টানা-হ্যাঁচড়া করেন। তারা বলেন ‘ডাক্তার আমরা না তোরা’।”
তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী রেজিস্টার হাসান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘মলদ্বারে সমস্যা থাকায় ওই মহিলার ছেলেকে গত বৃহস্পতিবার প্রথমে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিলো। সেখান থেকে শুক্রবার রাতে শিশু মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। শিশুটির ডায়রিয়া সমস্যা ছিল। এ কারণে তাকে আইসলিউশনে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি (চাঁদনী) সেখানে ভর্তি না করে ফাইলপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। পরে শনিবার সকালে আবার ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রোগীর স্বজনেরা এসে নার্সদের সঙ্গে ঝামেলা করেন। তার জের ধরে রোগীর মা আমাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন।’
শিশু মেডিসিন ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অসীম কুমার সাহা বলেন, ‘শিশুটির ডায়রিয়া সমস্যা ছিল। এ কারণে তাকে আইসলিউশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনরা সেখানে না নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। শনিবার আবার তারা হাসপাতালে আসলে সকালে আমি ওয়ার্ডে যাই। সেখানে রোগীর স্বজন চাঁদনী বেগম আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এমনকি তিনি (চাঁদনী) আমাকে ধাক্কাও দিয়েছেন।’
শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘রোগীরা হাসপাতালে আসলে সেবা দেওয়ার দায়িত্ব চিকিৎসকদের। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরতে ঘুরতে সময় ক্ষেপণ হওয়ায় রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। এভাবে ঘুরপাক খেলে আমার মাথাওতো ঠিক থাকতো না। মূল সমস্যাটা করেছেন সিস্টাররা। তারা শিশুটিকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে না পাঠিয়ে কখনো সার্জারি আবার কখনো মেডিসিন ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বলেন। এতে করে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হন। খবর পেয়ে বিভাগীয় প্রধান অসীম কুমার সাহা সেখানে আসলে স্বজনরা তার সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন। পরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আমি সমস্যার সমাধান করেছি।’