দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ইছামতি নদী। সেই ইছামতি নদী থেকেই ছোট যমুনা নদীর উৎপত্তি। পরে ফুলবাড়ী উপজেলার মাঝপথ ধরে বিরামপুর উপজেলার কাটলা সীমান্ত ঘেঁষে হিলি সীমান্ত এলাকায় ঢুকে পড়ে নদীটি। এরপরে আবারও ঢুকে পড়ে ভারতের হিলি সীমান্ত এলাকায়। দীর্ঘ পথ ঘুরে এলেও মাত্র ৬ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিং না করায় নদীটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে নদীর দু‘পাশে শস্য আবাদ করতে পারছেন না এলাকার কৃষকেরা। বর্ষা মৌসুমে নদীটি ভরাট হয়ে এলাকা প্লাবিত হলেও নদীতে পানি থাকে মাত্র এক মাস। এরপর নদীটি আবার সেই মরা খালেই পরিণত হয়।
স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম, সুজন হোসেন, এলাকার বাসিন্দা মাহবুব হোসেন, মিনহাজুল ইসলামসহ অনেকেই বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিরামপুরের কাটলা ও হিলির মংলা এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীটি স্থানীয়দের জন্য ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। আগে নদী গভীর ছিল, নদীর পানি দিয়ে তীরবর্তী এলাকার জমিতে চাষাবাদ হতো। আবার কেউ কেউ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নদীতে চলাচল করতো নৌকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় নদীর গভীরতা কমে যায়। নদীতে এখন পানি থাকে না বললেই চলে। বর্ষা মৌসুমে কিছু সময় পানি থাকলেও বাকি সময় শুকনা খটখটে। পানি না থাকায় নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অনেকেই ধানসহ নানা ধরনের চাষাবাদ করছেন।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিটি বিরামপুরের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘বিরামপুরের ওপর দিয়ে প্রধান যে নদীটি প্রবাহিত হয়েছে সেটি ছোট যমুনা নদী। এই ছোট যমুনা নদীর উৎপত্তি হয়েছে চিরিরবন্দরের বিন্নানগরি এলাকায় ইছামতি নদী থেকে। এখন সেই ইছামতি নদীতেই নাব্য সংকট রয়েছে। তাই শুধু ছোট যমুনা নদী খনন করে লাভ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। উনি জানিয়েছেন, ওনারা পরিকল্পনা করছেন ইছামতি নদীসহ এটির সঙ্গে সংযুক্ত নদী এবং খালগুলোও সমন্বিতভাবে খনন করার।’