জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন ফজলে রাব্বি। তিনি ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করে ২০১৫ সালে আর এফ টাওয়ারের ১২ তলায় অবস্থিত ইউরো ফ্রেড ফরোয়াডিং কোম্পানিতে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তাদের সংসারে প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে নিহত ফজলে রাব্বী মেজ। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাড়িয়া জেলার নবীনগড় থানার সাতমোড়ায়।
ফজলে রাব্বির ছোট ভাই রিফাত আলম জানান, আগুনের লাগার পর তার ভাই ফজলে রাব্বিকে ফোন দিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু ধোঁয়ার কারণে তিনি বের হতে পারছিলেন না।
নিহতের বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, আগুনের খবর পেয়ে ছেলেকে ফোন করেন তিনি। রাব্বি তাকে জানায়- যে ফ্লোরে কাজ করি, সেখানে আটকা পড়ে আছি। রাস্তা পাচ্ছি না। পরে আবার ফোন করলে রিসিভি করা হলেও সে কোন কথা বলতে পারে নাই। শুধু কান্নার শব্দ শুনেছি। আরও পরে আবারও ফোন করলে রাব্বির ফোনটি অন্য একজন রিসিভি করে বলেন, মর্গে লোক পাঠান। পরবর্তীতে তার বোন জামাই ও ছোট ছেলে রিফাত আলম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
ফজলে রাব্বির স্ত্রী সাবিহা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর উপার্জনেই সংসার চলতো। শ্বশুর তো বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষ। তাকে (রাব্বিকে) হারিয়ে এখন আমরা কী করবো, কীভাবে আমার ছেলেকে মানুষ করবো তা বুঝতে পারছি না।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ফজলে রাব্বির লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা। শুক্রবার (২৯ মার্চ) জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে ফজলে রাব্বিকে দাফন করা হয়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সোনারগাঁয় উপজেলার সম্ভপুরা ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় আহম্মেদ জাফর বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। তিনি নবীনগরের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। জাফর সোনালী ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মাত্র তিন মাস আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বনানীর এফ আর টাওয়ারের আসিফ এন্টারপ্রাইজের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের প্রধান পদে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ে বাস করছিলেন। নিহতের ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল মামুন তার চাচার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।