কারিগররা জানান, তাবিজ তৈরিকরতে প্রথমে ঢাকা থেকে কাচামাল হিসেবে ব্রঞ্জ, তামা, দস্তা কেজি প্রতি ৪শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় কিনে আনা হয় । পরে সাইজ মতো কেটে গোল করে সাচে ফেলে সাজানো হয়। এরপর আগুনে পুড়িয়ে পাইন দিয়ে ঝালাই করা হয়। তারপর আবার সাইজ মতো কেটে বিভিন্ন মেডিসিন দিয়ে কালার করে তাবিজ তৈরি করা হয়। তৈরিকৃত তাবিজ ঢাকা, খুলনা, বগুড়া, বরিশাল, বরগুনা, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কেজি প্রতি ৯শ’ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
জলিরপাড়ের রুপচাদ বাগচি নামে এক কারিগর জানান, ‘আমরা সকাল থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত দৈনিক ৮-১০ কেজি মালের কাজ করতে পারি। এতে দৈনিক মজুরি বাবদ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পাই । বাকি সময় অন্যান্য কাজ করি । এতে যা রোজগার করি তাতেই আমাদের সংসায় চলে যায়।’
রানা বাগচি নামে আরেক কারিগর জানান, ‘এখানে কাজ করতে আমাদের কোনও অসুবিধা হয় না। আগে এই এলাকার অনেকেই ইমিটেশনের গহনা তৈরি করতো। কিন্তু এখন এসব গহনার চাহিদাও কম, কারিগরদের মজুরিও কম। তাই এখন অনেক কারিগররা তাবিজ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।’
জলিরপাড় ব্রোঞ্জ মার্কেট সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত তালুকদার বলেন, ‘চীন ও ইন্ডিয়ার মানসম্পন্ন ডিজাইনের গহনা ও সুলভ মূল্যের কারণে আমাদের এখানের তৈরি গহনার চাহিদা কমে গেছে। তাই অনেক কারিগররা তাবিজ তৈরিতে ঝুঁকছেন। একসময় এ মার্কেট অনেক জমজমাট ছিল, যা এখন নেই । সরকার আমাদের সহযোগিতা করলে আমরা এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারবো। ’