বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস। এছাড়া সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশেও এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হককে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত মোট ৪৬ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ট্রেজারার অধ্যাপক একেএম মাহবুব হাসান নিজ দায়িত্বে অতিরিক্ত উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুরোধক্রমে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে সোমবার দুপুরের পর ববি ক্যাম্পাসে উপাচার্য প্রফেসর ইমামুল হককে তার মেয়াদ শেষের আগের দিন পর্যন্ত (২৬ মে, ২০১৯) ছুটিতে পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে উল্লসিত হয়ে ওঠেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনের ৩৪তম দিন সোমবার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যখন অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন তখনই খবর আসে উপাচার্যকে পূর্ণ মেয়াদে (২৭ মে তার চার বছর মেয়াদ শেষ) ছুটিতে পাঠানোর। মুহূর্তে অবস্থান কর্মসূচি পরিণত হয় আনন্দ-উল্লাসে। এর মধ্য দিয়েই দীর্ঘ ৩৪ দিনের আন্দোলনের পরিসমাপ্তি এবং অচলাবস্থার নিরসন হয়।
এ প্রসঙ্গে আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দাবির মুখে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর উপাচার্যকে বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়েছেন। পূর্ণ মেয়াদে ছুটিতে থাকলে তিনি (উপাচার্য) আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। তাই রাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা মেনে নিয়েছে। এই মুহূর্ত (সোমবার দুপুর) থেকে উপাচার্যের অপসারণ দাবির আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক আনন্দ মিছিল করে। তারা মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে বড় শোডাউন করে আনন্দ মিছিল করবেন। আনন্দ মিছিলের পর শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া জানান, উপাচার্যকে পূর্ণ মেয়াদে ছুটি দেওয়ায় শিক্ষক সমিতি আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী প্রশাসনের নির্দেশক্রমে অতি দ্রুত ক্লাসে ফিরে যাবেন তারা। দীর্ঘ এক মাস ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা যাতে নতুন করে কোনও সেশন জটে না পড়ে সে বিষয়ে শিক্ষকরা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান জানান, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ট্রেজারার উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। আগামীকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ করলে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের কটূক্তি করেন। এর প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ২৯ মার্চ ভিসি তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় ভিসির পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। কিন্তু তিনি পদত্যাগ না করে ১৫ দিনের ছুটিতে গিয়ে উল্টো গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ায় আরও ক্ষুব্ধ হয় তারা। এদিকে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতাসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে কোনও সুফল না পাওয়ায় উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।