সংসার চালিয়ে জিপিএ-৫, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে বুলবুল

বুলবুল হোসেন

মা-বাবা অসুস্থ। তাই সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে স্কুলছাত্র বুলবুল হোসেনের ওপর। মোবাইলের দোকানে সেলসম্যানের চাকরি নেয় সে। তবে লেখাপড়া ছাড়েনি বুলবুল। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর স্কুল থেকেই বিজ্ঞান বিভাগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের দেখাশোনা, আর লেখাপড়া একসঙ্গে চালাতে গিয়ে প্রাইভেট পড়ার সামর্থ্য ছিল না বুলবুলের। এরপরও প্রতিটি পরীক্ষাতেই ভালো ফল করতে থাকে সে। সংসার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বরিশালের সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বুলবুল জিপিএ-৫ পেয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাসরত খলিলুর রহমান ও আলেয়া বেগম দম্পত্তির ছেলে বুলবুল। খলিল এক সময় একটি ক্লিনিকের সিরিয়াল লেখার চাকরি করতেন। পরবর্তী সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হন। আলেয়া সেলাইয়ের কাজ করেন। সংসারে অভাব অনটন লেগেই রয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে একটি মোবাইলের দোকানে সেলসম্যানের চাকরি নেয় বুলবুল।

বুলবুল বলে, ‘টেস্ট পরীক্ষার সময় বাবা-মা দুই জনই অসুস্থ হয়ে পড়ায় তেমন পড়াশোনা করতে পারিনি। সংসার চালানো, তার মধ্যে আবার নিজের পড়াশোনা করা। সব মিলিয়ে আমাকে একরকম সংগ্রাম করতে হয়েছে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার আগে কোনও প্রাইভেট পড়াও আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। নিজ থেকে লেখাপড়া করে এই ফল করেছি। প্রতিটি পরীক্ষায় প্রশ্ন বুঝে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সেজন্য আমার ফল ভালো হয়েছে। আরও লেখাপড়া করে আমি চিকিৎসক হতে চাই।’

সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক অলিউল ইসলাম বলেন, ‘সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পরও বুলবুলকে কোনও সময় লেখাপড়া থেকে মনোযোগ হারাতে দেখিনি। এ কারণে অষ্টম শ্রেণিতেও সে বৃত্তি পেয়েছে। বুলবুলের ভালো দিক হলো বুঝেশুনে উত্তর দেওয়া। এজন্য প্রতি ক্লাসে ভালো ফল করতো।’ বুলবুলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।