নিহত সাইদুল রহমান উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের ঝিনা মিস্ত্রিপাড়া গ্রামে জামরুল ইসলামের ছেলে। একই গ্রামের তহির উদ্দিনের লিচু বাগানে তার লাশ পাওয়া যায়।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসীন আলী বলেন, ‘সাইদুল ইসলাম রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজারে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। সে বাড়িতে না আসায় তার স্ত্রী সিমা খাতুন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। এক পর্যায়ে গভীর রাতে বাড়ির পাশে তহির উদ্দিনের লিচু বাগানে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।’
ওসি আরও বলেন, ‘তহির উদ্দিনের কাছ থেকে তার ভাতিজা আবু সুফিয়ান রনি ছয় হাজার টাকার চুক্তিতে লিচু বাগান লিজ নেয়। বাদুড়ের আক্রমণ থেকে লিচু বাঁচাতে তার দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে রনি। তার চাচা আকবর হোসেনের বাড়ি থেকে ওই ফাঁদে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়। ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের ওই ফাঁদে আটকে সাইদুলের মৃত্যু হয়েছে।’
তবে নিহত সাইদুল ইসলামের মামা রেজাউল ইসলামের দাবি, লিচুর বাগানের মালিক তহির উদ্দিন, আকরাম হোসেন, আবু সুফিয়ান রনি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার ভাগ্নেকে বাগানের মধ্যে ফেলে চলে যায়। এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তারা।
নিহত সাইদুলর ইসলামের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন বাঘা থানার এসআই মুঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি জানান সাইদুলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ও বাম হাতের নিচে বিদ্যুতের তারে পোড়া দাগ রয়েছে। মৃতদেহের পাশ থেকে কিছু লিচু, একটি মোবাইল ফোন, একটি গ্যাস লাইট ও কিছু বিড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি মহসীন আলী বলেন, সাইদুল ইসলামের মামা আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার পর লিচু বাগান মালিকের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।