নিহত শ্রমিক দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এলাকার কৈফতি গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে ও আশুলিয়া জিরাবো এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে পাশের ম্যাগপাই গার্মেন্টেসের অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুপুরে বিরতির পর নিজ বাসা থেকে কারখানার উদ্দেশে রওনা দেন পোশাক শ্রমিক নুর আলম। ২টার জিরাবো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাইপাইল-আব্দুল্লাপুর মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে ছেড়ে আসা মোহনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ওভারটেক করতে গিয়ে ওই শ্রমিককে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে শ্রমিক নিহতের খবর কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে ওই কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা মোহনা পরিবহনের অপর একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা আধ ঘন্টারও বেশি সময় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে করে বাইপাইল-আব্দুল্লাপুর মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) নাহিদ হাসান বলেন, ‘নিহত শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও উত্তেজিত শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় যান-চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’