আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের পরিকল্পনা জানতে চাইলে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে একথা জানান।
পলক বলেন, ‘সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে দুই দিন অন্তত আমি আমার নির্বাচনি এলাকা চলনবিলের সিংড়ায় কাটাই। এসময় আমার কোনও সিকিউরিটি প্রয়োজন হয় না। চলনবিলবাসীই আমাকে তাদের ভালোবাসার বলয়ে নিরাপত্তা দিয়ে রাখেন। নির্বাচনি এলাকায় আমি কোনও এমপি, প্রতিমন্ত্রী না। কারও ভাই, কারও বন্ধু, কারও ছেলে, কারও বা আশার স্থল। আমি চলনবিলবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত। তাদের এই ভালোবাসা আর সমর্থনেই আমি এমপি, প্রতিমন্ত্রী হয়েছি। আমি নির্বাচনি এলাকায় কখনও মোটরসাইকেলে, কখনও পায়ে হেঁটে সিংড়াবাসীর উন্নয়ন আর সমস্যা সমাধানে কাজ করি।’
তিনি বলেন, ‘যেকোনও উন্নয়নে চলনবিলবাসীর চোখে-মুখে যখন আনন্দের রেখা ফুটে উঠে, সে সময় আমি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হই। যখন কোনও মানুষের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা, অর্থ সমস্যা, রাস্তা-ঘাটে যাতায়াতের সমস্যা, বেকার জীবনের সমস্যা ইত্যাদির খবর পাই তখন নিজেকে চলনবিল পরিবারের সদস্য হিসেবে ধরে রাখতে পারি না। ছুটে যাই তাদের কাছে। সমস্যার সমাধান করেই আমি অর্জন করি তৃপ্তি, এই পা-ফাটা মানুষগুলোর নিখাদ ভালোবাসা। এভাবেই আজ আমি তাদের ভালোবাসার বলয়ে বাঁধা।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে পলক বলেন, ‘আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগ আমার প্রাণ। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার অভিভাবক। শেখ হাসিনার কাছে প্রধান বিষয় বাংলাদেশের উন্নয়ন, শুধু আওয়ামী লীগের উন্নয়ন নয়। তেমনই প্রধানমন্ত্রীর স্নেহধন্য হিসেবে সিংড়ার সার্বিক উন্নয়নই আমার প্রত্যাশা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক সময়ে সিংড়া প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে এক গ্রামের মানুষের সঙ্গে পাশের গ্রামে যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল খুবই খারাপ। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এখন সিংড়ার প্রত্যন্ত গ্রামের সব মানুষই পাকা রাস্তার মাধ্যমে যোগাযোগে সম্পৃক্ত। প্রতিটি গ্রাম আলোর ঝলকানিতে পরিপূর্ণ আর ইন্টারনেট কানেকশনে যুক্ত। কৃষকরা এখন ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। তাদের মাঝে নেই কোনও হাহাকার, নেই ক্ষুধাকষ্টের কান্না। ফলে সিংড়ায় নেই কোনও চাঁদাবাজি, নেই কোনও অপরাধ। এই শান্তি আর সুখ যাতে আরও বাড়ে সেজন্য নিরলস পরিশ্রম করাকেই আমার জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছি।’
আরও পড়ুন-
প্রতিটি ঈদই পালন করি জনগণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী