জানা গেছে, গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া সদর আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমরকে প্রার্থী করা হয়। বিএনপি জোট অংশ না নেওয়ায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মহাজোট থেকে নুরুল ইসলাম ওমরকে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু তিনি ২০ দলীয় জোট প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন।
মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় আগামী ২৪ জুন উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মহাজোট থেকে একক প্রার্থী দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক এসএমটি জামান নিকেতাকে এবং জাতীয় পার্টি থেকে জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমরকে প্রার্থী করা হয়। প্রতীক বরাদ্দ পাবার পর থেকেই দুই প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
তবে নৌকার প্রার্থীর চেয়ে লাঙ্গল প্রার্থীর প্রচারণা কম। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নৌকার পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেলেও লাঙ্গলের পোস্টার তেমন চোখে পড়েনি। আবার তাদের তুলনায় বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণা ব্যাপক।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে এসএমটি জামান নিকেতা সাংবাদিকদের জানান, দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভোট মহাজোটগতভাবে না এককভাবে করা হবে সে বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, দলের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা তিনি মেনে নেবেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী নূরুল ইসলাম ওমর সাংবাদিকদের বলেন, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মহাজোটের পক্ষে জাতীয় পার্টির আসন। মহাজোট থেকে কে ভোট করবে তা নির্ধারণ হয়নি। জাতীয় পার্টি তাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তাই তিনি দলের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুস সালাম বাবু জানান, মহাজোট থেকে একক প্রার্থী না থাকায় তারা হতাশ। দু’জন প্রার্থী থাকায় ভোটাররা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। তিনি আশা করেন, একক প্রার্থীর বিষয়ে মহাজোট থেকে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, নির্বাচন এলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল নিরসন হয়। তারা সবাই হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে ভোটে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আর আওয়ামী লীগ ও অন্য সংগঠনগুলোর বিষয়ে হয় উল্টোটা। তারা ভোটের আগে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে। নিজ দল থেকে কেউ নির্বাচিত হলে তিনি অন্য নেতার চেয়ে বড় হয়ে যাবে, তাই তাকে পরাজিত করার চেষ্টা চলে। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ওইদিন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কতিপয় দায়িত্বশীল নেতা সদরের উত্তর দিকের কেন্দ্রগুলোতে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।
তারা আরও বলেন, মহাজোট থেকে দু’জন প্রার্থী থাকায় বিব্রত। এতে ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবে এবং এ সুযোগে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী ভালো ফল পাবেন।
এদিকে জেলা জাসদ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। জেলা জাসদের সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন জানিয়েছেন, তার নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের এসএমটি জামান নিকেতা (নৌকা), বিএনপির
বগুড়া সদর আসনে ১৪১ কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন লাখ ৮৭ হাজার ২৭৯। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৯৫ হাজার ৭১৩, পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬। গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম দুই লাখ সাত হাজার ২৫ ভোট ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়েছিলেন।
আগামী ২৪ জুন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৪১ কেন্দ্রে ইভিএম’এ ভোট গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।