বরগুনায় দিনে দুপুরে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রিফাতের পরিবারের সদস্যরা। রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ও স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি জানিয়েছেন, নয়ন আইনের হাতকে ফাঁকি দিতে না পারায় তারা সন্তুষ্ট। তবে তারা দ্রুত সব আসামির গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার চান।
দুলাল শরীফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী নয়ন বন্ডের মৃত্যুর খবর শুনেছি। তবে অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নরপশুরা আমার ছেলেকে খুন করে আমাকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলেছে। আমি তো আর কোনও দিন আমার ছেলেকে ফিরে পাবো না। যদি ওদের সঠিক শাস্তি হয়েছে দেখে যেতে পারি তবে একটু হলেও স্বস্তি পাবো।’
রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি বলেছেন, ‘রিফাতকে যারা মেরেছে তাদের সবার শাস্তি চাই। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আল্লাহ যেন তাদের সবার বিচার করেন।’
মঙ্গলবার (২ জুলাই) ভোররাত সোয়া ৪টার দিকে বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে পুরাকাটা এলাকায় যায় পুলিশ। এরপর ভোররাত সোয়া ৪টার দিকে উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। তখন পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধঘণ্টা গোলাগুলির পর সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি শটগানের কার্তুজের খোসা, তিনটি দেশি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের চার জন সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম নয়নকে জীবিত ধরতে। তাহলে অন্য আসামিদের ধরতে সুবিধা হতো। তবে বাকি আসামিরা আমাদের নজরদারিতে আছে। শিগগিরই সব আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।’
আরও পড়ুন-
নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
স্বামীকে বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ নারীর, তবুও শেষ রক্ষা হলো না
রিফাত শরীফের ওপর হামলার পরের সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়!