গফরগাঁওয়ে স্কুলের মাঠ দখল করে সরকারি রাস্তা!

11

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর দরগাভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের জায়গা দখল করে পাকা সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইইডির তত্ত্বাবধানে ৭০০ মিটার সড়কের মধ্যে স্কুল মাঠের ওপর দিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি। সড়ক নির্মাণ বন্ধে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছেন। এরপরও কোনও কাজ না হওয়ায় এলাকায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ইসলামপুর দরগাভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ হিল বাকী জানান, ঈদের ছুটি থাকায় কাউকে কিছু না জানিয়ে গত ১৪ জুন সড়ক নির্মাণের জন্য স্কুল মাঠের প্রায় ১০০০ বর্গফুট জায়গায় গর্ত করা হয়েছে। পরের দিন ১৫ জুন স্কুল খোলার পর এই বিষয়টি দেখে তাৎক্ষণিক উপজেলা শিক্ষা অফিসার, এলজিইডির প্রকৌশলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন তিনি। এরপরও ওই কাজের ঠিকাদার কাজ বন্ধ না করে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।  পরে বিষয়টি অবহিত করে কাজ বন্ধ রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম নিজে এবং তার লোকজন গালিগালাজসহ তাকে মারধরের হুমকি দিয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গফরগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে দাবি করে প্রধান শিক্ষক আরও জানান, মাঠের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা একদিকে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার শিকার হবে।

সড়কটি যাতে স্কুলের মাঠের ওপর দিয়ে না বানানো হয় সেজন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

222

স্থানীয় অভিভাবক কামরুল ইসলাম জানান, স্কুল মাঠের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলে ছেলেমেয়েদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। খেলাধুলা থেকেও ছেলেমেয়েরা বঞ্চিত হবে।

গফরগাঁও উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন জানান, স্কুলের পাশের মূল সড়ক থেকে স্কুল হয়ে ৭০০ মিটার পাকা সড়কের কাজ করা হচ্ছে। গফরগাঁওয়ের দেওয়ান কনস্ট্রাকশন গত ১০ জুন থেকে কাজটি শুরু করেছে।

তার দাবি, স্কুলের মাঠের বাইরে সরকারি জায়গায় এই কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সড়কের কাজ শুরু করা হয়েছে। এটি গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুল কানেক্টিং প্রকল্পের কাজ।  তবে স্কুল কর্র্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসী যদি না চায় তাহলে সড়ক নির্মাণের কাজ করা হবে না।

রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারি জায়গাতেই ঠিকাদার সড়ক নির্মাণ করে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি, লাঞ্ছিতও করা হয়নি।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই জনগণের স্বার্থে সড়ক নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল আহাদ খান জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রধান শিক্ষককে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উপজলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সালমা আক্তার জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্কুল মাঠে সড়ক নির্মাণ না করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, কোনও অবস্থাতেই স্কুলের জায়গায় সড়ক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। 

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিষয়টি নিস্পত্তি করার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।