সাবিনা সুলতানা বলেন, ‘বৈঠকে নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংলাপ কমিটি আমাদের কাছে হলগুলোতে নির্বাচনি পরিবেশ রয়েছে কিনা জানতে চেয়েছে। আমরা বলেছি, নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন তা নেই। এছাড়া হলগুলোতে সহাবস্থানের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।’
এর আগে বিকাল ৪টার দিকে প্রক্টর দফতরে সংলাপ শুরু হয়। এতে আবাসিক হলগুলোর প্রাধ্যক্ষরা অংশ নেন। বৈঠকে নির্বাচনি পরিবেশ, হলগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোতে সহাবস্থান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দৌরাত্ম্য এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাকসু নির্বাচন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে আসে। প্রাধ্যক্ষরা এসব সমস্যা সমাধান করে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদার বক্স হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল আলীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্য রয়েছে। এছাড়া অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দৌরাত্ম্য খুব বেশি। দেখা যাচ্ছে, একজন ছাত্র এসে পরিচয় দিচ্ছে এই হলের দায়িত্বে রয়েছে; অথচ সে অন্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাই আমরা বলেছি, ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে হলের নেতৃত্বে যারা থাকবে তারা যেন ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হয়। প্রশাসনকে সেটি নিশ্চিতের জন্য অনুরোধ করেছি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাকসু নির্বাচন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় সভার আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সব শিক্ষার্থী হলে থাকে না, অনেকে বাইরে থাকে। সেক্ষেত্রে আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনগুলোতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এ কাজ একা হল প্রশাসনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। তারাও আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’
রাকসু সংলাপ কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান বলেন, ‘হল প্রাধ্যক্ষরা নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো আমলে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করবে সংলাপ কমিটি।’
প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট রাকসু নির্বাচন সংলাপ কমিটি গঠন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান। কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছ থেকে গঠনতন্ত্র সংগ্রহ করে সংলাপ শেষ করেছে। সংলাপে ছাত্রলীগ ছাড়া সব সংগঠনই সহাবস্থানের দাবি জানিয়েছিল।