দুই মাস আগে চাঁদাবাজি ও লিচু চুরির মামলা, জানেন না রাবি ছাত্রলীগ নেতারা!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়াসহ সাত জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও লিচু চুরির অভিযোগে গত ১০ মে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ ইবনে মনোয়ার বাদী হয়ে গত রাজশাহীর সিএমএম আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে মামলার দুটি শুনানিও হয়েছে। তবে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সহসভাপতি সাদ্দাম হোসেন দাবি করেছেন, এই মামলার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না, আসামিদের কেউ এ বিষয়ে জানেন কিনা সেটাও তারা বলতে পারছেন না। 

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশা। আগামী ১৫ জুলাই মামলার তৃতীয় শুনানি দনি ধার্য্য করা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গোলাম কিবরিয়া ও সাদ্দাম হোসেন ছাড়া মামলার এজহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন-রাবি ছাত্রলীগের আইন বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান আলী, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কানন, উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান আশিক ও কর্মী মেহেদী হাসান বিজয়। এছাড়াও ক্যাম্পাসের বহিরাগত কিন্তু ছাত্রলীগ সভাপতির কক্ষে থাকেন মো. আকাশ নামের একজনকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী আব্দুল্লাহ ইবনে মনোয়ার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিন গোদাগাড়ী বাগানের আম ও লিচু চলতি মৌসুমসহ দুই মৌসুমের জন্য এক লাখ ৫১ হাজার ৯৯৯ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নেন। গত ৭ মে রাতে গোদাগাড়ী বাগানে আসামিরা অবৈধ অস্ত্র-শস্ত্রসহ মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বাদীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় বাদীর সঙ্গে সাক্ষীরাও থাকায় আসামিরা কোনও অঘটন ঘটাতে পারেনি। তবে আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জন বাদীকে বাগান থেকে আম ও লিচু না পাড়তে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ৯ মে আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন মিলে বাগানের লিচু পাড়তে থাকে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বাগানের পাহারাদার লিচু পাড়তে নিষেধ করলে গোলাম কিবরিয়া তাকে কিল ঘুষি মারেন এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে বাগান থেকে চলে যেতে বলেন। আসামিরা এখনও চাঁদা দাবি করছে। এতে বাদীর জীবন হুমকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৩৮৭/৫০৬(২)/৩৪ ধারার গত ১০মে  মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই মাসের ১৫ মে শুনানির দিন ধার্য করেন। আগামী ১৫ জুলাই ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিকে মামলাটির তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। আদালত থেকে কোনও ধরনের নোটিশ আসেনি।’ একই কথা জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমি এব্যাপারে কিছু জানি না। অন্য আসামিরা কিছু জানে কিনা বলতে পারছি না।’

এর আগে পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা কানন ও মেহেদীর নেতৃত্বে গত ৭ মে রাত ৯টার দিকে ছয়-সাত জন ছাত্রলীগ কর্মী লিচু বাগানে যায়। বাগানে থাকা প্রহরীরা লিচু খেতে নিষেধ করলে তারা নিজেদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দেয়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রহরীরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে বাগান থেকে পালিয়ে যায়। এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লিচু বাগানে প্রহরীদের টঙে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে হল থেকে রড, রামদা, স্টাম্প নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন করে। এতে ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করে স্থানীয়রা। 

আরও পড়ুন- লিচু খেতে গিয়ে হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা