পানিতে ডুবে আছে পুরো ধানক্ষেতগত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে দিনাজপুরের হিলির ছোটডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ক্ষেতে পানি জমে প্রায় ৫০ বিঘা জমির আউশ ধান পচে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ওই জমি এখন নতুন করে আমন লাগানোর জন্য প্রস্তুত করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে আউশ চাষে উৎসাহিত করতে ১১৫ জন কৃষককে সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
পানির কারণে পচে গেছে আউশের ক্ষেত হিলির ছোটডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক মহসীন আলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বোরো মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনার সার ও বীজ নিয়ে আমরা এলাকার সমিতিভুক্ত ৩০ কৃষক প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আউশ ধান আবাদ করেছিলাম। কিন্তু আবাদ করে আমরা বিপদের মধ্যে পড়েছি। চারা রোপণের কিছুদিনের মধ্যেই ধানের গাছ মরে যাওয়া শুরু হয়। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেও ধানের গাছ মরা রক্ষা করা যায়নি। প্রথমে কিছু জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অবশিষ্ট কিছু জমিতে ধান ভালো ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে চলা বৃষ্টিপাতের কারণে পুরো মাঠ পানিতে ভরে গেছে। এতে জমিতে ধানের গাছগুলো ডুবে যাওয়ায় যেগুলো ভালো ছিল সেগুলোও পচে নষ্ট হয়ে গেছে। লোকশান কমানোর জন্য আউশের আবাদ করলেও উল্টো এতে লোকশানের মাত্রা আরও বেড়ে গেল। বিঘাপ্রতি আমাদের আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে সহযোঘিতার কামনা করছি।’
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাম্মাৎ শামীমা নাজনীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলার ১৪৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। আউশ চাষকে উৎসাহিত করতে ১১৫ জন চাষিকে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সার ও বীজ বিতরণ করেছি। তবে ধান রোপণের শুরুতেই ছোটডাঙ্গাপাড়া এলাকার কিছু জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে ধানে পচন দেখা গিয়েছিল। এর ওপর গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ওইসব জমিতে বেশি পরিমাণ পানি জমায় সেগুলোতে আরও ব্যাপকভাবে পচন ধরেছে। আমরা কৃষকদেরকে জমি থেকে পানি বের করে দেওয়ায় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’