নবগঙ্গা প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ এমপি শিখরের

বক্তব্য দিচ্ছেন অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরমাগুরায় সরকারি উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর। তিনি বলেন, মাগুরায় নদী খননের ৪২ কোটি টাকার কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন না করা ও কাজের ধীরগতিসহ কাজের মান খুব নিম্নমানের।

তিনি রবিবার (২৮ জুলাই) মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

এমপি শিখর বলেন, নবগঙ্গা নদী খননের এই প্রকল্প পাস করিয়ে আনতে দীর্ঘদিন চেষ্টা করতে হয়েছে। অথচ এটির খননের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যাপক অনিয়ম করেছে ও অবহেলা করেছে। যে কারণে যথাসময়ে এটির কাজ সম্পন্ন হয়নি। 

মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আবু বাসার আখন্দ, রূপক আইচ, শফিকুল ইসলাম শফিক, কবি সাগর জামান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর মেহেদী হাসান রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন মুক্তা।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি একান্ত সচিব থাকাকালীন আমি মাগুরা-মহম্মদপুর সড়কের উন্নয়নে ৩২ কোটি টাকার বরাদ্দ আনতে সহযোগিতা করেছিলাম। তবে কাজটি এতই নিম্নমানের হয়েছিল যে পরে যখন ওই সড়ক দিয়ে যখন মহম্মদপুর গেলাম তখন আমার কান্না পেয়েছিল।’

তিনি এই অনিয়ম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সহযোগিতার আহ্বান জানান। এমপি জানান, মাগুরায় মাদক, গুজব, জঙ্গি প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাগুরার  শ্রীপুর উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে তিনি সবার সহযোগিতা চান।

প্রসঙ্গত, ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নকগঙ্গা নদী পুনঃ খননের কাজটি ২০ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করেনি ঠিকাদাররা। ৪টি গ্রুপে বিভক্ত এ কাজ কোনও কোনও স্থানে ৪৪ শতাংশ কোনও কোনও স্থানে ৭৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

এ ব্যাপারে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ্ আলম জানান, কাজটি গড়ে ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ শেষ করা গেছে। প্রকল্পটি নতুন করে সম্প্রসারিত না হলে বাকি কাজ করা সম্ভব নয়। এ কাজে ঠিকাদারদের কিছুটা গাফলতি ছিল। তবে চার বার পুনঃ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।