গুলিবিদ্ধ দুইজন হলেন জামাল হোসেন (৩৩) ও পুটু মিয়া (৪৫)। হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার এসআই জিল্লুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বুধবার ধরে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় আনোয়ার হোসেন শাহীন নামের একজনের।
এসআই জিল্লুর রহমান ও এলাকাবাসী জানান, একটি হত্যা মামলা ও জমি নিয়ে বর্ষণ গ্রামের শামসুর রহমান ও আবদুল গফুরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরেই ২০১২ সালে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে এবং শামসুরের ছেলে শাহীন এর আসামি হন। সম্প্রতি শাহীন জামিনে ছাড়া পান। গত বুধবার রাতে গফুর পক্ষের লোকজন শাহীনকে তুলে গ্রামের আলমের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। রাত ৩টার দিকে পুলিশ জানালা ভেঙে ওই বাড়ি থেকে শাহীনকে উদ্ধার করে। এরপর হাফিজুর ও নুর ইসলাম নামে দু’জন গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে মামলা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিল্লুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকালে বর্ষণ গ্রামে গিয়ে বিচারের আশ্বাস ও সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। এরপরও সন্ধ্যার দিকে গফুরের জামাতা আবদুস সালাম তার বন্ধু সবুজ ও কয়েকজনকে নিয়ে শামসুর রহমানদের এলাকায় যান। লোকজন তাদের চ্যালেঞ্জ করলে সালাম পিস্তল গিয়ে গুলিবর্ষণ করেন। এতে জামাল পায়ে ও পুটু হাতে গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী ধাওয়া করে সালামকে আটক করেন। তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত গ্রামবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সালামকে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ৭.৬২ ক্যালিবারের বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করে। এছাড়া ঘটনাস্থলে গুলির একটি খোসা পাওয়া যায়। আহত দুই জনকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে সালাম ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর একই গ্রামের হায়দার হত্যা মামলার বাদী আবদুল গফুরের জামাতা জানতে পেরে গফুর ও তার পরিবারের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশী বাধায় তা ব্যর্থ হয়।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি শওকত কবির জানান, ‘পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। গ্রামবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’