‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রোকনকে আগেই তুলে নেওয়ার অভিযোগ পরিবারের

রোকনুজ্জামান রোকন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর কাঁঠালতলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোকনুজ্জামান রোকনকে (৩৫) আগেই বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। রোকনের মা স্কুল শিক্ষিকা রুশিয়া পারভীন দাবি করেছেন, রোকনকে বৃহস্পতিবার বিকালে ধরে নেওয়ার পর তার ব্যাপারে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় পুলিশ। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। তবে পুলিশ বলছে, তুলে নেওয়া ও তথ্য দিতে অস্বীকৃতির অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। 

নিহত রোকনুজ্জামান রোকন উপজেলার দর্শনা পৌর শহরের দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের কাঁঠালতলায় করিম মন্ডলের বাঁশবাগানে দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলি চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ত্রিমুখী বন্দুকযুদ্ধ হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে রোকনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে রোকনের মা রুশিয়া পারভীন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ রোকনকে দর্শনা পৌর শহরের দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের ছটাঙ্গা মাঠের আমবাগান থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর রোকনের খোঁজ করতে থানায় যোগাযোগ করি আমরা। তখন থানা থেকে রোকনের আটকের ব্যাপারে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। জানানো হয়, রোকনকে কেউ আটক করে থানায় নিয়ে আসেনি। কিন্তু রাতে রোকনকে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দেখানো হয়েছে।’

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে  বন্দুকযুদ্ধে ওই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। নিহত রোকনের বিরুদ্ধে মাদক, চোরাচালান, ডাকাতি, অপহরণ ও হামলাসহ কমপক্ষে ১০টি মামলা রয়েছে।’

আরও পড়ুন- চুয়াডাঙ্গায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১০ মামলার আসামি নিহত