জাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীকে শারীরিক লাঞ্ছনা, ভেস্তে গেছে সংকট সমাধানের আলোচনা

আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রলীগ নেতার হাতে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন করছেন। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় ওই ছাত্র লাঞ্ছনার ঘটনায় আবারও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছিলেন। এই দুই ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সৃষ্ট সংকট সমাধানে দুই পক্ষের আলোচনায় বসার কথা ছিল।

তিন দফা দাবিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে গত মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা তিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনরতরা। বৃহস্পতিবার উপাচার্য তাদেরকে আলোচনার বসার প্রস্তাব দিলে শর্তসাপেক্ষে তারা রাজি হন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার আলোচনায় বসার কথা ছিল দু’পক্ষের।    

আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নতুন প্রশাসনিক ভবনে যান। বেলা ১২টার দিকে উপাচার্য আলোচনায় অংশ নিতে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা ওই দুই ঘটনায় জড়িতদের তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করেন। বিচারের পর আলোচনায় বসার কথা জানান তারা। এমন দাবির মুখে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন।

এদিকে বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনরত জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম সাইমুম শহীদ রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন এক দোকানে নাশতা করতে যান। এ সময় তিনি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মন্ডলের হাতে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন। অভিষেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। এক বছর আগে তার ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে।

অভিযুক্ত অভিষেক মন্ডল বলেন, ‘ঘটনায় আমিও আহত হয়েছি। সাইমুম উদ্ধত আচরণ করায় এমন ঘটনা ঘটেছে।’

এর আগে গত ২৭ আগস্ট আন্দোলন কর্মসূচিতে যাওয়ায় ওইদিন রাতে আল-বেরুনী হলে ৪৮তম আবর্তনের ছাত্র সোহায়েব ইবনে মাসুদকে মারধর করে ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান।  

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনীক বলেন,‘ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির রাজনীতির মূলোৎপাটন করা হোক। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোনও সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।’

জানা গেছে, অভিযুক্ত অভিষেক মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনরতরা।