বিএনপি থেকে সরে গেলেন বগুড়ার মোহাম্মদ শোকরানা

বগুড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানাবগুড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানা বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে ডাকযোগে পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক এই উপদেষ্টা।

সোমবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ শোকরানা বলেন পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে রাজনীতি ছেড়েছেন তিনি। ২০ বছর বিএনপির রাজনীতি শেষে এখন পরিবার ও ব্যবসায় সময় দেবেন বলেও জানান তিনি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মোহাম্মদ শোকরানা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বগুড়া জেলা আওয়ামী যুবলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে কয়েকটি হত্যা মামলাসহ নানা অপরাধের অভিযোগ ওঠে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট গ্রেফতার হলে বগুড়ার কিবরিয়া হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় তার। ওই মামলায় সোয়া ছয় বছর কারাভোগের পর ১৯৮১ সালে বিচারপতি আবদুস সাত্তার ক্ষমতায় এলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পান। ১৯৯৯ সালে তারেক রহমানের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।  ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডাল কেলেংকারি ও ত্রাণের কম্বল মজুদের অভিযোগে গ্রেফতার হন। পরে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন।

বিগত বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাবেন বলে গুঞ্জন চলছিল। শহরতলির ছিলিমপুরে চারতারকা হোটেল নাজ গার্ডেনসহ তার সকল স্থাবর ও অবস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির কথাও শোনা গেছে। এসব বিক্রি করে বিদেশে সন্তানদের কাছে চলে যাবেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মোহাম্মদ শোকরানার সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, সংস্থার পরিচালক কাজী শফিকুল আলম স্বাক্ষরিত নোটিশ শোকরানার বগুড়া সদরের ছিলিমপুরের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। তিনি স্বনামে-বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। নোটিশ পাবার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তার নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর-অবস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ শোকরানা বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে ছিলেন। এখন আর সে ভার বহন করতে পারছেন না।

মোহাম্মদ শোকরানার বিএনপি ছাড়া প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন,  ‘বিএনপি একটি বিশাল সমুদ্রের মত। এখন থেকে দু-একফোটা পানি সরে গেলে কিছুই হবেনা। বিএনপির এ ক্রান্তিকালে ও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় সংগঠন ছেড়ে যাওয়ায় তিনি বরং ধিকৃত হবেন’।