পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপর, কুষ্টিয়ায় পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার

1

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপদসীমার ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুণ্ডু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ।

স্থানীয় ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের আলী নগর, বাহিচর, ফিলিপনগর এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে পুরো ফিলিপনগর ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে যাবে।’

ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন জানান, ফিলিপনগর বড় মসজিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা দিয়ে বাঁধ উপচে বন্যার পানি প্রবেশ করতে থাকলে বালির বস্তা দিয়ে এলাকাবাসী তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমগীর বলেন, ‘ভুরকা এলাকায় স্ল্যুইচ গেট দিয়ে পদ্মার পানি প্রবেশ করে বৈরাগীর চর, হাটখোলা, রহিমতলা, মাছদিয়াড়, বালিরদিয়াড়, কোল দিয়াড়ের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কৃষকের বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ফসল ও ঘরবাড়ি। এসব গ্রামের রাস্তাঘাট পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এভাবে আরও দুই দিন পানি বাড়তে থাকলে পুরো ইউনিয়ন পানিতে ডুবে যাবে।’

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ বলেন, ‘পুরো চিলমারী ইউনিয়ন এখন পানিতে ডুবে গেছে। চিলমারী ইউনিয়নবাসী এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ মানুষের বাড়ি ও ঘর পানিতে থৈ-থৈ করছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাড়ি-ঘরের মানুষ চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।’

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সিরাজ মণ্ডল জানান, ‘গতকাল থেকে আবারও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেসব এলাকায় পানি প্রবেশ করেনি সেসব এলাকাতেও পানি ঢুকে পড়েছে।’

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, ‘পদ্মা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ডুবে গেছে প্রায় ৬ কোটি টাকার ফসল। এপর্যন্ত উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়ন ইউনিয়নে ৪৭ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, তেল, চিড়াসহ বিভিন্ন সামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’  

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, ‘পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পানির উচ্চতা বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটারের ওপরে পরিমাপ করা হয়েছে। এ ছাড়াও গড়াই নদী পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টি মিটার।’

তিনি আরও জানান, ভারতে বৃষ্টিপাতের কারণে পদ্মা এবং গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও দুই থেকে তিন দিন পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।