চট্টগ্রামে দুই ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫

অস্ত্রসহ গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজন চট্টগ্রামে দুই ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে বায়েজিদ থানা পুলিশ। বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার জানিয়েছেন, গ্রেফতার আসামিরা দুই বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানো তিন ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার, ম্যাক্সন ও একরামের হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করতো।

গ্রেফতার পাঁচজন হলেন– মো. রুহুল আমিন (২১), মো. তুহিন ওরফে তুফান (২৮), আবদুল কাদের সুজন (২৯), মো. জাবেদ ওরফে ভাগিনা জাবেদ (৩১) ও রায়হান আহমেদ রনি (২০)। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি এলজি, পাঁচ রাউন্ড কার্তুজ, ছুরি ও চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওসি আতাউর রহমান খন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ৬ সেপ্টেম্বর আবদুল ওয়াজেদ নামে এক ব্যবসায়ীকে ফোন করে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে কথা বলে ইমতিয়াজ সুলতান একরাম। পরে ওই ব্যবসায়ীর ইমো নাম্বারে কল দিয়ে কথা বলে শিবির ক্যাডার সরোয়ার। ৮ সেপ্টেম্বর ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা করে তাদের অনুগত ক্যাডাররা। এ ঘটনা তদন্ত করতে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সরোয়ার, ম্যাক্সন ও একরাম মধ্যপ্রাচ্যে থেকেই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের অনুগত এই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এই পাঁচজনের মাধ্যমে তারা বিদেশে বসে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি করতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতার পাঁচ সন্ত্রাসী বায়েজিদ বোস্তামি, অক্সিজেন, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিল।’

প্রসঙ্গত, সরোয়ার ও ম্যাক্সন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। আর একরামের পুরো নাম ইমতিয়াজ সুলতান একরাম। সে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নুরুন্নবী ওরফে ম্যাক্সন ও চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকা থেকে সরোয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তারা মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমায়।