মেয়েকে পরীক্ষায় বাড়তি সময় না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধর!

ঘটনার পর শিক্ষকদের প্রতিবাদ ও স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে মীমাংসার দৃশ্য

জেএসসি ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার সময় শেষ হওয়ার পরও লেখার সুযোগ না দেওয়ায় কেন্দ্রে ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছেন এক পরীক্ষার্থীর মা। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নারী আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের স্ত্রী রোজিনা আক্তার রোজি।

সোমবার (৪ অক্টোবর) এই ঘটনার পর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা পরীক্ষা কেন্দ্রের মাঠে জড়ো হন। পরে আটোয়ারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসানসহ শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সব সূত্রেই এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষক আব্দুল জব্বার ও স্থানীয়রা জানান, আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান গোলাপের মেয়ে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের ১নং কক্ষে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা পড়ার পর দায়িত্বরত শিক্ষক মোকলেছার রহমানসহ তিন কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষার্থীদের খাতা নেন। এসময় লেখা শেষ না হওয়ায় আরও সময় চায় ওই পরীক্ষার্থী। কক্ষ পরিদর্শক মোকলেছার রহমান বাড়তি সময় না দেওয়ায় ওই পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করা তার মা রোজিনা আক্তার রোজিকে অভিযোগ করে। মেয়ের অভিযোগ শুনে রোজিনা আক্তার পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢুকে শিক্ষক মোকলেছার রহমানের শার্টের কলার ধরে মারধর করেন। এক পর্যায়ে জুতা খুলে ওই শিক্ষককে মারেন। অন্য শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।  

শিক্ষক মোকলেছার রহমান জানান, পরে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিষয়টি আপোষ করা হয়।

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি ঘটনাস্থলে এসে সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।’

আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিক আমি ওই পরীক্ষার কেন্দ্রে যাই। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ওই পরীক্ষার্থীর মা তার ভুল বুঝতে পেরে শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চান। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।’