বিএনপি-জামায়াতের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোটের গণতন্ত্র দেখেছি। সেসময় জোট সরকারের মদতে তাদের কর্মীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনকে হত্যা নির্যাতন করেছে। এছাড়া জামায়াতের কারণে আজ বিএনপি জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে সংসদ ও রাজপথে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। নির্মূল কমিটি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে।’
শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের উদীচী কার্য়ালয় প্রাঙ্গণে জেলা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নারী ছাত্র ও আইনজীবী ফ্রন্টের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন,‘ সরকারের ভালো কাজে যেমন প্রশংসা করি, তেমনি ভালো কাজ না করলে তারও সমালোচনা করি। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা, এমপি, মন্ত্রী এটা পছন্দ করেন না।’
নারী নেত্রী লক্ষ্মী চ্যার্টাজির সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মহীউদ্দীন, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসাইন, অধ্যক্ষ উর্মিলা রায় প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মধ্য দিয়ে দেশে জঙ্গি নির্মূল হয়েছে ভাবার কোনও কারণ নেই। জামাতের রাজনীতি দেশে থাকবে আর দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে এটা ভাবারও কোনও সুযোগ নেই। জঙ্গিবাদের কারখানা নির্মূল করে তাদের প্রশয়দাতা ও মদতদাতাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে জামাতের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দল ও দেশ গঠন করতে চান, প্রতিবন্ধকতার কারণে সেভাবে পারছেন না। আওয়ামী লীগের নেতারা কে কী বললো তাতে কান না দিয়ে আমাদের সব সময় শেখ হাসিনার পাশে থাকা উচিত।’