পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটে দুর্ভোগে যানবাহন মালিক ও চালকরা

filling-1কমিশন বৃদ্ধি, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, লাইসেন্স জটিলতা, ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সব পেট্রোল পাম্পে রবিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন মালিক ও চালকরা।
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ
নাটোর
১৫ দফা দাবিতে নাটোর জেলার ২৬টি পেট্রোল পাম্পে রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই সকল তেল পাম্পে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ব্যবহারকারীদের। তেল না পেয়ে ফিরতে থাকে যানবাহন চালকরা। এর প্রভাবে সড়কগুলোতে যানবাহণের সংখ্যা কমে আসে।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পিকে বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় খুলনা বিভাগে এই ধর্মঘট শুরু হয়। আজ থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রায় ৫শ’ পাম্প মালিক ধর্মঘটে যোগ দেয়। দাবি আদায় না হলে সিএনজি মালিকরাও যুক্ত হবে। পর্যায়ক্রমে পুরো দেশেই এই ধর্মঘট শুরু হবে।’

filling-2দিনাজপুর


বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদ কেন্দ্র ঘোষিত দিনাজপুরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। এর ফলে শহরে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে।
হঠাৎ করেই ধর্মঘটের ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও ছোট যানবাহনগুলো জ্বালানি সংকটের মধ্যে পড়েছেন।
কাহারোল উপজেলার তোফাজ্জল হোসেন জানান, সকালে গাড়ি নিয়ে তিনি বের হয়েছেন। কিন্তু পাম্পে তেল নেই। এখন তিনি যে বাসায় ফিরবেন সেটিও পারছেন না। রাস্তার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে গেছে, যাতে করে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন তিনি।
উপশহর এলাকার নাজমুল ইসলাম জানান, জনগণকে জিম্মি করে যেসব আন্দোলন হয় তাতে করে জনগণকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ ধরনের আন্দোলনে যাতে করে জনগণ দুর্ভোগে না পড়ে সেজন্য সরকার এবং প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
পেট্রোল পাম্প মালিক ও শ্রমিকরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের তিনটি বিভাগে ভোর থেকে এই ধর্মঘট চলছে। যেহেতু কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী চলছে তাই তারা কর্মসূচি পালন করছেন।filling-3
নওগাঁ
১৫ দফা দাবিতে রবিবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেছে নওগাঁর ফিলিং স্টেশনগুলো। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় স্টেশনগুলোর প্রবেশ পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
গ্রাহকরা বলছেন, বিষয়টি তাদের অজানা। যদি আগে থেকে বিষয়টি তারা জানতেন তাহলে তারা প্রয়োজনমতো যানবাহনে তেল নিয়ে রাখতেন।
নওগাঁ অতিথি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৫ দফা দাবিতে এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে। দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

filling-4হিলি

“আর প্রতিশ্রুতি নয়, দাবির বাস্তবায়ন চাই” এমন স্লোগানে ১৫ দফা দাবিতে হিলিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। এদিকে পাম্পে তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। বিকল্প উপায়ে বাড়তি টাকা দিয়ে খুচরা দোকানদারদের কাছ থেকে তেল নিচ্ছেন তারা।
এদিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের মতো হিলিতে রবিবার ভোর ৬টা থেকে হিলি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ধর্মঘট চলছে।
হিলি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ইদ্রিস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ। সেই আলোকে আমরাও পাম্প বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।