বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা চৌকি পাঁচ দিনের মধ্যে সরানোর আশ্বাস বিএসএফের

সীমান্ত (ফাইল ছবি)রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখার ৭০ গজের মধ্যেই বসানো হয়েছিলো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অস্থায়ী চৌকি। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সাহেবনগর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে তা স্বীকার করে বিএসএফ। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তারা চৌকিটি সরিয়ে নেবে বলে বিজিবি-কে আশ্বাস দেয়। বিজিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী বিজিবি ব্যাটালিয়ন-১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ জানান, ‘বিষয়টি সমাধানে মঙ্গলবার দুপুরে পতাকা বৈঠক হয়। সেখানে সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেখানে চৌকি স্থাপন করা হয়েছে সেটি শূন্যরেখার ৭০ গজের মধ্যে। নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর কোনও বাহিনীরই স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা থাকতে পারে না। বিএসএফ নিয়ম ভঙ্গ করে স্থাপনাটি করেছে। তারা এখন বিষয়টি স্বীকার করছে এবং পাঁচ দিনের মধ্যে সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘মঙ্গলবার দুপুরে সাহেবনগর বিওপি কমান্ডার নায়েক সুবেদার শওকত আলী বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কমান্ডারের সঙ্গে পতাকা বৈঠকে বসেন। বৈঠকটি ৪০ মিনিট চলে। এ সময় বিএসএফ দাবি করে, কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসীরা অবাধে আসা যাওয়া করবে। তাই দুই দেশের ভালোর জন্যই তারা এটা করেছে। তবে আমরা বলেছি উভয় দেশের অনুমতি ছাড়া তারা এটা করতে পারেন না। তাই আমরা এর তীব্র প্রতিবাদপত্র পাঠাবো।’

উল্লেখ্য, গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সীমান্ত ফাঁড়ির এক কিলোমিটার পূর্বদিকে পদ্মা নদী থেকে বের হয়ে একটি শাখা নদী উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী হয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার চরলবণগোলা এলাকায় ঢুকেছে। তবে নদীটির ভাঙনে সেখানকার সীমানা পিলারগুলো গত বছরই বিলীন হয়ে যায়। সম্প্রতি নদীতে পানি কমে গিয়ে পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ছোট একটি চর পড়েছে। চরটিতে গিয়ে কিছু দিন ধরে বিজিবি সদস্যরা টহল দিতেন। চরটি বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত বলে নৌকা ছাড়া হেঁটেই বিজিবি সদস্যরা সেখানে যাতায়াত করতেন।

গত শুক্রবার দিনগত রাতে বিএসএফ সদস্যরা বাঁশের মাচা পেতে ওপরে খড় ও পাটকাঠি দিয়ে একটি অস্থায়ী চৌকি নির্মাণ করে সেখানে। পরদিন শনিবার সকাল থেকে ভারতের চরলবণগোলা ফাঁড়ির বিএসএফ সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়ে টহল দেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সদস্যরা সেদিকে গেলে বিএসএফ সদস্যরা পালিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা রবিবার দিনে একবার ও রাতে আরেকবার চরের কাছাকাছি গিয়ে চলে যাওয়ার সংকেত দিলে বিএসএফ সদস্যরা চৌকি ছেড়ে পালিয়ে যায়। রাতে আবারও নৌকায় করে বিএসএফ সদস্যরা চরে ওঠার চেষ্টা করলে বিজিবি সেখানে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে বিএসএফ নৌকা ঘুরিয়ে চলে যায়। তবে গভীর রাতে বিএসএফ আবারও চরের অস্থায়ী চৌকিতে গিয়ে অবস্থান নেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সেখানে গেলে বিএসএফ সদস্যরা পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন- 


অনুপ্রবেশ বেড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অনুপ্রবেশ বেড়েছে যে কারণে

বিএসএফের পুশইনে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী