এর আগে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে উজ্জলকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নামে পুলিশ। সে যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে তার পাসপোর্টের কপি ও ছবি পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন উজ্জল (৩৫) যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন কলির (২৭) ওপর বর্বর নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। কলি কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের বড় রামদেবপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে। গত বুধবার জেলা শহরের বসিরার দোকান এলাকায় ভাড়া বাসায় পাঁচ বছরের সন্তানকে বেঁধে উজ্জল তার স্ত্রীর চুল কেটে দেয় এবং শরীরে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। উজ্জল ছেলেকে গলা কেটে হত্যারও হুমকি দেয়।
একপর্যায়ে কলি ছেলেসহ গোপনে পালিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখান থেকে শুক্রবার তাকে চিকিৎসার জন্য কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানেও সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায় উজ্জল। সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য কলিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় আবারও সে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সোমবার রাতে কলিকে দেখতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহিম।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীর হোসেন জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা বাদী হয়ে মোশাররফ হোসেন উজ্জলকে একমাত্র আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন- সন্তানকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে বর্বর নির্যাতন স্বামীর