পাবনায় আকস্মিকভাবে দুই বোনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আইইডিসিআর

কালিকাপুর গ্রামে আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞ দলপাবনার ফরিদপুরে অসুস্থ হয়ে আকস্মিকভাবে সাথী ও বিথী নামে দুই বোনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নেমেছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) অনুসন্ধান দল। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) আইইডিসিআরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এক চিঠিতে এ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলকে নির্দেশ দেন। চিঠিতে মাঠ পর্যায়ের তদন্ত শেষে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

অনুসন্ধান দলের সদস্যরা সোমবার দুপুর ১২টায় ফরিদপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে সাথী ও বিথীর বাড়িতে যান। এ সময় পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল ও ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. লুলু ওয়াল মারজান উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত দলের সদস্যরা মৃত দুই বোনের বাবা-মাসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে তারা পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি বিকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বমি করতে শুরু করে সাথী ও বিথী। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে বড় বোন সাথী ও পরদিন শুক্রবার রাতে হাসপাতালে ছোট বোন বিথীর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে আতঙ্কে এলাকার অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মৃত সাথী ও বিথি ফরিদপুর উপজেলার হাদল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম প্রামাণিকের মেয়ে। সাথী অষ্টম শ্রেণির ও বিথি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার বিকাল ৩টায় পাবনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের সিভিল সার্জন জানান, যেহেতু একই পরিবারের ছোট দুই বোন পরপর দুই দিনে মারা গেছে, সে কারণে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। বিষয়টি ঢাকার আইইডিসিআর’কে জানানো হয়েছিল। সেখান থেকে গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুসন্ধান টিম পাবনায় এসে তদন্ত করে দেখছে। কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তারা। এছাড়াও বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় ফিরবেন বিশেষজ্ঞ দল।

সিভিল সার্জন আরও জানান, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এই দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃত্যু দেখে আতঙ্কে মাস হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওই গ্রামের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

এ ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. লুলু ওয়াল মারজানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম রবিবার সকালে ওই গ্রামে পরিদর্শনে যান। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।