চীনে পড়াশোনা করছে ঠাকুরগাঁওয়ের ৪০ শিক্ষার্থী, আতঙ্কে অভিভাবকরা

 

চীনে অবস্থানরত মোকসেদুলের পরিবার

‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে পাঠাইছিলাম চীনদেশে। এখন রাতদিন নামাজ পড়ে মোনাজাত করি আমার ছেলে যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে’—কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধ খাদেমুল ইসলাম। আর বারান্দায় তখন মনোয়ারা বেগম বিলাপ করছিলেন, ‘আমার ছেলেরে আমার কাছে আইনা দাও, আর কিছু চাই না।’ মঙ্গলবার দুপুরে এমনই বাষ্পরুদ্ধ পরিবেশ দেখা গেলো চীনে পড়তে যাওয়া ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলাখুড়ি গ্রামের মোকসেদুল মোমিনের বাড়িতে। মোকসেদুল বর্তমানে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে রয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী চীনে অবস্থান করছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আতঙ্কে রয়েছে। টিভি চ্যানেল আর সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার কথা শুনে অভিভাবকদের একমাত্র চাওয়া, সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে আসুক তাদের সন্তানরা। চীনে অবস্থানরতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ চীনা প্রবাসী মানুষদের স্বজনরা।

বাবা খাদেমুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন কথা হয় কুনমিংয়ে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোকসেদুল মোমিনের। খাদেমুল ইমলাম জানান, ‘অনেকস্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পড়তে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখন তো শুনতেছি সেখানে যে বালাই (ভাইরাস) তাতে অনেক লোকই মারা গেছে। যদি এই বালাই (ভাইরাস) না কমে তাহলে আমার ছেলেকে সুষ্ঠুভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন করছি।’

খাদেমুল বলেন, ‘মোকসেদুল জানিয়েছে সে রুম থেকে বের হতে পারছে না। খুব প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই যত দ্রুত সম্ভব আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।’ তবে নাসির উদ্দিন নামের আরেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ‘আমাদের ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা সব-সময়ই আমাদের খবর রাখছেন। আমরা যারা এখানে এসেছি এখন পর্যন্ত কারও কোনও সমস্যা হয়নি। পরিবারের স্বজনদের বলতে চাই চিন্তার কারণ নেই। আশা করি আমরা ভালো থাকবো।’

ছেলে আহমেদুল হকের জন্য দুশ্চিন্তায় রাণীশংকৈলের নেকমরদের বাসিন্দা আব্দুল হক। ৪ বছর আগে পড়াশোনার জন্য চীনে সন্তানকে পাঠান তিনি। চীনের এই ভাইরাসের কথা শোনার পরই আতঙ্কে রয়েছেন তিনি। যদিও আহমেদুল জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন।

জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি ঠাকুরগাঁও জেলার ৪০ শিক্ষার্থী চীনে পড়াশোনা করছে। করোনা ভাইরাস প্রশ্নে সতর্কতা, আক্রান্ত হলে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া ও জেলার যারা চীনদেশে অবস্থান করছেন পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,  সদর উপজেলার এক ছাত্র ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে ফেরার আঁকুতি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানোর।