সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে ২০ দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মানুষ যেন মানুষ থাকে, মানুষের মানবিকতা যাতে সংরক্ষিত হয়, মমত্ববোধ যেন আরও উৎকর্ষ সাধন করে, সেজন্য বই পড়ার কোনও বিকল্প নেই। আমাদের নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় মনোযোগী করতে হবে।
অমর একুশে বইমেলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক নগর, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। এই শহরে প্রায় ৭০ লাখের মতো মানুষ বসবাস করে। এই শহরে এমন একটি বইমেলার বড় অভাব ছিল। কয়েক বছর আগে বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্তভাবে নগরীর দুই-এক জায়গায় বইমেলার আয়োজন করা হতো। যেটির অভাব ঘুচিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বইমেলা।’ তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার শুরু হয়। তখন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি চাদর বিছিয়ে কয়েকটি বই রেখে বিক্রির মাধ্যমে বইমেলার যাত্রা শুরু হয়। আজকে ৮ লাখ বর্গফুটজুড়ে সেই বইমেলা বিস্তৃত। আমি বিশ্বাস করি, চট্টগ্রামের এই বইমেলাও একদিন সেই পর্যায়ে যাবে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অনেকে স্মার্ট পরিবার দেখানোর জন্য ১০ থেকে ১২ বছরের ছেলে-মেয়েদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছি। কী মারাত্মক একটি বিষয় ছেলে-মেয়ের হাতে তুলে দিচ্ছি, সেটি আমরা ওয়াকিবহাল নয়। একটি স্মাটফোন ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাকে কত কিছুতে যে প্রবেশ করার সুযোগ করে দিচ্ছে, সেটি আমরা খুব একটা ভাবি না। আমি মনে করি, আমাদের সন্তানদের বই পড়ার জন্য তাগিদ দেওয়া প্রয়োজন। তারা কোন বই পড়বে সেটিও আমাদের ভেবেচিন্তে ঠিক করা উচিত।
তিনি বলেন, ছোটবেলায় মাসুদ রানা পড়তাম। এগুলো পড়ে খুব একটা জ্ঞানলাভ হতো তা নয়। জ্ঞানলাভের জন্য বই পড়ার তাগিদ দিতে হবে। আমি মনে করি, আজকের যুগের বাস্তবতায়, সমাজব্যবস্থার বাস্তবতায় আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের বাস্তবতায় বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। সবাইকে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এতে আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ সংরক্ষিত হবে। উৎকর্ষের অনেক গভীরে প্রথিত হবে।
দেশকে খাটো করছে বিএনপি
তথ্যমন্ত্রী একই অনুষ্ঠানে বলেন, ‘গতকাল দেখলাম একটি রাজনৈতিক দল (বিএনপি) ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে। ভোট দিলো বাংলাদেশের মানুষ। ভোট হলো ঢাকা শহরে। যদি কোনও নালিশ থাকে, তাহলে ঢাকা শহরের ভোটারদের কাছে নালিশ করতে হবে। যদি কোনও নালিশ থাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে নালিশ দিতে হবে। কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে ধরনা দেওয়া- এটি দেশ এবং জাতিকে অপমান করা। ক্রমাগতভাবে বিদেশিদের কাছে ছুটে যাওয়া- দেশ, জাতি এবং ঢাকা শহরের ভোটারদের অপমান করার শামিল।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যদি বিএনপির কোনও নালিশ থাকে, সেই নালিশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনে। সেই নালিশ দেওয়ার জন্য তারা আদালতে যেতে পারে। সেই নালিশ দেওয়ার জন্য জনগণের কাছে যেতে পারে। ভোটারদের কাছে যেতে পারে। সেটি না করে তারা বিদেশি দূতাবাসের কুটনীতিকদের ডেকে নালিশ উপস্থাপন করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি দূতাবাসগুলো অথবা রাষ্ট্রগুলো যাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে এটি সেটির পথ তৈরি করে দেওয়া। এটি কখনও আমাদের জন্য সম্মানজনক নয়। এটি আমাদের জন্য অসম্মানের। আর বিএনপি ক্রমাগতভাবে এই অসম্মানের কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিএনপির নেতাদের আমি অনুরোধ জানাবো, আপনাদের যদি কোনো নালিশ থাকে তা দেশের জনগণের কাছে উপস্থাপন করুন। নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করুন। প্রয়োজনে আপনারা আদালতে যান। দয়া করে বারবার নালিশ উপস্থাপন করে বিদেশিদের কাছে দেশকে খাটো করবেন না।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে একুশে বইমেলা পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক, চসিক শিক্ষা স্বাস্থ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি ও মেলা পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব, চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়য়া, যুগ্মসচিব লেখক-গবেষক জামাল উদ্দীন, মেলা পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক চসিক উপসচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।