এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিজিবি সদস্য ইসহাক আলীর দায়ের করা মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। ওই মামলায় বিজিবি চার মৃত ব্যক্তিসহ ১৯জন জ্ঞাত এবং ৭০জন অজ্ঞাতনামা এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র লুটসহ একাধিক অভিযোগ এনেছে।
বিজিবির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে মো. মানিক মিয়ার অভিযোগে এ বিষয়ে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মাটিরাঙ্গা থানার মামলা নং-৩, তারিখ ৬ মার্চ, ২০২০।
মামলার এজাহারে ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরের দিকে মো. মফিজ মিয়াসহ অন্য ব্যক্তিদের মারধর, জখম ও সামনে থেকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয় বিজিবির হাবিলদার মো. ইসহাক আলীসহ অন্য অভিযুক্ত বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষকে গুলি করার সময় বাধা দেওয়ায় বিজিবি সদস্য শাওন খানকে গুলি করে হত্যারও অভিযোগ আনা হয় বিজিবি হাবিলদার মো. ইসহাক আলীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে মানিক মিয়া বাদী হয়ে ৪০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও মামলা নিতে চায়নি মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। এক ঘটনায় দুটি মামলা হবে না বলে জানিয়ে দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহনুর আলম। পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এই তথ্য নিশ্চিত করে মাটিরাঙার পৌরসভার মেয়র মো শামছুল হক বলেন, ‘পুলিশকে মামলা রেকর্ড করায় ধন্যবাদ। আইনের সেবা পাওয়ার অধিকার সবার আছে। কোনও বাহিনীর সদস্যরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এখন প্রকৃত তদন্ত, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২ মার্চ) ভ্যানে করে চার টুকরা কাঁঠাল গাছ পরিবহনকালে মাটিরাঙ্গার গাজিনগরে বিজিবি বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিজিবি এলোপাতাড়ি গুলি করে। এসময় ঘটনাস্থলে মারা যান সাহাব মিয়া ওরফে মুছা মিয়া ও তার ছেলে মো. আকবর আলী। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিজিবি সদস্য শাওন খান, স্থানীয় আহাম্মদ আলী, মো. মফিজ মিয়া এবং মো. হানিফ মিয়াকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেই মারা যান সাহাব মিয়ার আরেক ছেলে আহাম্মদ আলী ও বিজিবি সদস্য শাওন খান। এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আহাম্মদ আলীর শ্বশুর মো. মফিজ মিয়া। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মো. মফিজ মিয়ার ছেলে মো. হানিফ মিয়া চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আরও পড়ুন-
চার মৃত ব্যক্তিসহ ৮৯ জনকে আসামি করে মামলা
বিজিবি-গ্রামবাসী সংঘর্ষে নিহত ৫