বিএনপিকে সুবিধা দিচ্ছে নতুন নির্বাচনি বিধান: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ (ছবি: বাসস)স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নতুন বিধি-বিধানে আওয়ামী লীগ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘কী অদ্ভুত আইন! আমরা আমাদের প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে পারবো না। সংসদ সদস্য হওয়ার অপরাধে ভোট চাইতে পারবো না। মন্ত্রী হওয়ার অপরাধে ভোট চাইতে পারবো না। এটি বিএনপিকে অনেক সুবিধাজনক অবস্থান দিয়েছে। আশা করি, বাস্তবতার নিরিখে ও সময়ের প্রেক্ষাপটে অন্যান্য দেশের অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন এই বিধান পরিবর্তন করবে।’

রবিবার (৮ মার্চ) বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম নগরীর কোতয়ালি থানাধীন কে সি দে রোডে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন,  ‘আমরা আজকে জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার জন্য কোনও অনুষ্ঠান করছি না। এটি আমাদের দলীয় কর্মিসভা। এখানে আমরা মিটিং করছি। কিন্তু বাইরে যখন মিটিং করবেন, নির্বাচনি বিধি-বিধানের কারণে আমরা সেখানে যেতে পারবো না। পৃথিবীর আর কোথাও এমন নিয়ম নেই। আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতে কেন্দ্রের মন্ত্রী হোন, আর রাজ্যের মন্ত্রী হোন, তারা ভোট ক্যাম্পেইন করতে পারেন। সংসদ সদস্যরা তো পারেনই। মন্ত্রীরা সুযোগ-সুবিধা বাদ দিয়ে ভোট ক্যাম্পেইন করতে পারেন। এমনকি যেই দেশ থেকে ভারতবর্ষ গণতন্ত্র শিখেছে সেই ইংল্যান্ডেও পারে। মন্ত্রীরাও পারেন, সংসদ সদস্যরাও পারেন। কিন্তু এখানে নির্বাচন কমিশন যে বিধি-বিধান করেছে। মনে হচ্ছে বাংলাদেশ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। এখানে সংসদ সদস্যরা ভোট চাইতে পারবে না, নির্বাচনি ক্যাম্পেইন করতে পারবে না।’

নতুন নির্বাচনি বিধানের অবসান চেয়ে তিনি বলেন, ‘এই আইনের কারণে প্লেয়িং গ্রাউন্ডটা এখন আমাদের জন্য লেভেল প্লেয়িং নয়। তাদের (বিএনপি) জন্য এটি সুবিধাজনক অবস্থান। কারণ আমাদের নেতারা এখন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী। আমাদের নেতারা নির্বাচনের ভোট চাইতে পারবেন না। কিন্তু তাদের বড় বড় নেতারা যারা সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ছিলেন। যাদের সামাজিক মর্যাদা এমপি-মন্ত্রীর চেয়ে কোনও অংশে কম নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেশি। তারা ভোট চাইতে পারবেন। এটি একটি বৈষম্য। এই বৈষম্যের অবসান হওয়া উচিত।’

দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দল থেকে যে কাউন্সিলর প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে সেই চূড়ান্ত। এখানে যদি কোনও পরিবর্তন, পরিবর্ধন করতে হয়। সেটি আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন আছেন। তিনি অন্য নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ঠিক করবেন। দল থেকে ইতোমধ্যে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে এবং আরও যেসব সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। সেগুলো সবাইকে মেনে চলতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত না মানলে, দল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দল চুপ করে বসে থাকবে না। প্রত্যেক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রথমে মেয়র প্রার্থীর জন্য ভোট চাইবেন, পরে নিজের জন্য ভোট চাইবেন। এটি হলে দেখা যাবে আমাদের পক্ষে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া সহজ হবে।’

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দি আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীসহ নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।