শ্রাবণীর আত্মহত্যা: নকলের প্রমাণ পায়নি কমিটি

Narayanganj_Umme Habiba Sraboniগত বৃহস্পতিবার পরীক্ষায় ‘নকল’ করার যে অপবাদ নিয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাবিবা শ্রাবণী (১৫) আত্মহত্যা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে এর কোনও প্রমাণ পায়নি কমিটি। ঘটনার চারদিনে সোমবার এ সত্য জানার পর সবাই বুঝল- মিথ্যে অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছে শ্রাবণী। এ ব্যাপারে দুই শিক্ষকের নামে সোমবার মামলা করেছে মেয়েটির বাবা। ঘটনাটি ডিআইটি এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলে ঘটেছে।
সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই স্কুলে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা মাধ্যমিক অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মো. এলিয়াসের নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক আব্দুল খালেক ও জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর সালাম। পরে কমিটির সদস্যরা শ্রাবণীর পরিবারের মা ও দুই ভাইসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান মো. এলিয়াস সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা দাবি করেছিলেন- শ্রাবণীকে পরীক্ষার হলে নকল করা অবস্থায় হাতে নাতে আটক হয়। তাদের ভাষ্যমতে- নকল করে লিখতে না দেখলেও শ্রাবণীর উত্তরপত্রের নিচ থেকে একটি কাগজ পাওয়া যায়। এ সময় ওই কাগজের সঙ্গে উত্তরপত্রের লেখার যাচাই-বাছাই না করেই শ্রাবণীর বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ আনা হয়।
মো. এলিয়াস জানান, আমাদের প্রাথমিক তদন্তে যে কাগজ পাওয়া গেছে সেটি আদৌ নকলের কোনও কাগজ নয়। এছাড়া আমরা বিভিন্ন তথ্য নিয়েছি, তা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

তদন্তের সময় অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্না দায় স্বীকার করে বলেন, শ্রাবণীর মায়ের সঙ্গে তার ভাই-বোনের সম্পর্ক। তাই মামা হিসেবে তিনি থাপ্পর মেরেছেন আর কিছু না।

সেদিনের পরীক্ষার পরিদর্শক ও শিক্ষিকা নাসরিন বেগম তদন্ত কমিটিকে জানান, শ্রাবণীকে নকল করতে দেখেন নাই। কিন্তু উত্তরপত্র পিনাপ করতে গিয়ে তিনি ওই ৮ পৃষ্ঠার সঙ্গে একটি কাগজ পেয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করেন।

গত বৃহস্পতিবার চলছিল ওই স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা। এতে পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উম্মে হাবিবা শ্রাবণী। পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় (নকল) অবলম্বনের অভিযোগে পরীক্ষার পরিদর্শক নাসরিন বেগম তাকে আটক করে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে নিয়ে যায়। এসময় ওই কক্ষে থাকা স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্না শ্রাবণীকে অনেক চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গালমন্দ করেন। ওইদিনের পরীক্ষা থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করে শ্রাবণীর পরিবারের সদস্যরা। তবে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে শিক্ষিকা নাসরিন বেগম ও শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্নার নাম উল্লেখ্য করে চিরকুট লিখে যায় শ্রাবণী।

দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা: শ্রাবণীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচণার অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জ গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলের দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের বাবা মো. হাবিবউল্লাহ। সোমবার রাত পৌনে ৮টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি এম এ মালেক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কামরুল হাসান মুন্না ও নাসরিক আক্তারকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে।

/এআই /এএইচ/

/আপ: আরএ/