পছন্দের ঠিকাদারদের সাত কোটি টাকার টেন্ডার দেওয়ার অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

বরিশাল

কর্মহীনদের মধ্য খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত জরুরি কার্যক্রম ছাড়া সরকারের অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অনিময় করে প্রায় সাত কোটি টাকার টেন্ডার বণ্টনের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। ৬ এপ্রিল এবং ১২ এপ্রিল দুই দফায় প্রায় ৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

বরিশাল ও খুলনা বিভাগীয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ১৫ মার্চ এক নোটিশে বরিশাল গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের স্টাফ কোয়ার্টারের বাউন্ডারি ওয়াল মেরামত, রূপাতলী কাঁচা বাজার সংলগ্ন হাউজিংয়ের বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট নির্মাণ, বরিশাল সাব ডিভিশনের গ্যারেজ নির্মাণ, বরিশাল, পটুয়াখালী, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর হাউজিংয়ের মেইন গেট নির্মাণ, পিরোজপুর সদরে হাউজিং প্রকল্পে বালু ভরাট, পাইলিং, আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, বরিশাল হাউজিংয়ে সেমিপাকা হাউজ নির্মাণ ও পানি সরবরাহ এবং খুলনায় নিজস্ব অফিস ভবন মেরামত কাজের ঠিকাদার আহ্বান করে।

পরে, এরই মধ্যে অনেকটা গোপনে ৬ এপ্রিল বরিশাল গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের স্টাফ কোয়ার্টারের বাউন্ডারি ওয়াল মেরামত, রূপাতলী কাঁচা বাজার সংলগ্ন হাউজিংয়ের বাউন্ডারী ওয়াল ও গেট নির্মাণ, বরিশাল সাব ডিভিশনের গ্যারেজ নির্মাণ, বরিশাল, পটুয়াখালী, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর হাউজিংয়ের মেইন গেট নির্মাণ, বরিশাল হাউজিংয়ে সেমিপাকা হাউজ নির্মাণ ও পানি সরবরাহ এবং খুলনায় নিজস্ব অফিস ভবন মেরামত কাজের দরপত্র অনলাইনে (ইজিপি পদ্ধতি) জমা নেওয়া হয়। ১২ এপ্রিল পিরোজপুর সদরে হাউজিং প্রকল্পে বালু ভরাট, পাইলিং ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণের প্রায় ৪ কোটি টাকার কাজের দরপত্র অনলাইনে জমা নেওয়া হয়।

ঠিকাদার জহিরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, ওটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডারের টাকার পরিমান দরদাতাদের জানিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী টেন্ডার আহ্বানের পর উধাও। ফোনে চেস্টা করেও তার কাছ থেকে কোন তথ্য জানা যায়নি। ঠিকাদার অনিল চন্দ্র জানান, করোনার কারনে সারা দেশে সকল সরকারি দপ্তরে জরুরী ব্যতিত সকল টেন্ডার বন্ধ রয়েছে। সবাই যখন করোনা যুদ্ধে ব্যস্ত তখন নির্বাহী প্রকৌশলী তার পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে ৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ ভাগাভাগি করতে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে গোপনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

এতে নিয়মের কোনও হেরফের হয়নি বলে দাবি করে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল হক বলেন, 'এই টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল গত ১৫ মার্চ। ইজিপি টেন্ডার হওয়ায় সরকারি বন্ধে টেন্ডার জমা নিতে কোনও সমস্যা হয়নি। কারণ ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত আছে।' পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মাদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেছেন, 'সরকার করোনা সংক্রান্ত কার্যক্রম ছাড়া সরকারি সব কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এই অবস্থায় উন্নয়ন কাজের টেন্ডার সমীচীন হয়নি।'