বগুড়ায় ফেরা গার্মেন্টস শ্রমিকরা হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না

বগুড়াবগুড়ার সোনাতলার তেকানীচুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের প্রায় নয়টি চরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে অসংখ্য গার্মেন্টস শ্রমিক এসেছেন। কেউ হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে ইচ্ছামতো চলাফেরা করছেন। এতে ওইসব চরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন চরবাসীরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, এ বিষয়ে পুলিশ যথাযথ ভূমিকা রাখছে না।

তবে সোনাতলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদ হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাইরে থেকে আসা সবাই কোয়েরেন্টিন মেনে চলছেন। যারা অমান্য করছেন তাদের সোনাতলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ সিটের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখছেন।

সোমবার সকালে সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নে খাবুলিয়া, সরলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, জন্তিয়ারপাড়া, আউচারপাড়া, ভিকনেরপাড়া, চরসরলিয়া ও দাউদেরপাড়া এবং পাকুল্লা ইউনিয়নের খাটিয়ামারী চরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওইসব চরের প্রতিটি ঘরে এক বা একাধিক ব্যক্তি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টস ও মিল-কারখানায় কাজ করেন। করোনাভাইরাসের কারণে গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। সেখানে আবদ্ধ অবস্থায় থাকতে অস্বস্তি লাগায় ঝুঁকি নিয়ে নদীপথে নৌকায় বা ট্রাকে চরের বাড়িতে ফিরছেন। তাদের অধিকাংশই হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না। চরে অবাধে চলাফেরা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন। এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চা স্টলে ভিড় করছেন। হাটেবাজারে একই অবস্থা। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং ও পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও তারা কোনও ভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন না।

উপজেলার জন্তিয়ারপাড়া ও সরলিয়া চরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গার্মেন্টস শ্রমিক জানান, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহরে বাসায় ঘুম আর টিভি দেখা ছাড়া কোনও কাজ নেই। বাসা থেকে বের হলেই পুলিশ প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন। তাই তাদের অনেকে কর্মস্থল ছেড়ে চরাঞ্চলের বাড়িতে চলে আসছেন।

এ প্রসঙ্গে সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শামছুল হক জানান, তার ইউনিয়ন ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা গার্মেন্টস শ্রমিকে ভরে গেছে। পাকুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্ত জানান, পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে তেমন ভূমিকা রাখছেনা।

সোনাতলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদ হাসান জানান, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরা শ্রমিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে সচেতনতামূলক সভা ও মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। কেউ অমান্য করলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখছেন।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী করোনাভাইরাস থেকে তাদের রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।