কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ধান ঘরে তুলতে যাতে কৃষকের সমস্যা না হয় সেজন্য শ্রমিকের পাশাপাশি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি মৌসুমে জেলায় ৮২ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ করা হয়েছে। এই জমি থেকে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকরা জানান, বোরো ধান কাটতে অল্প সময়ে অনেক কৃষি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটতে একটু সময় পাওয়া যায়, কিন্তু বোরো ধান পাকলেই কেটে ঘরে তুলতে না পারলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও রয়েছে শ্রমিক (কিষান) সংকট।
জেলার ডিমলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘এবার পাঁচ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। কীভাবে এই ধান ঘরে তুলবো ভেবে পাচ্ছি না। করোনা মোকাবিলায় জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। আগামী মাসে লকডাউন শিথিল করা না হলে ধান কাটা নিয়ে বেকায়দায় পড়ার আশঙ্কা করছেন আমার মতো অনেকেই। কারণ, এক গ্রামের শ্রমিক অন্য গ্রামে গিয়ে কাজ করে। ’
জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে এখনও ধান কাটা শুরু হয়নি। আগামী মাসের দ্ধিতীয় সপ্তাহে কিছু কিছু ধান কাটা হবে। ইরি-বোরো ধানের মৌসুমে নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। তাই দেরি না করে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কেটে ফেলতে হয়। করোনার প্রভাবে লকডাউনে থাকা শ্রমিক পাওয়া না গেলে লোকসান গুনতে হবে। আবার এলাকার শ্রমিক সরকারি উদ্যোগে হাওর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটতে যাওয়ায় সংকট বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া ধানের বাজারে দরপতনের কারণে প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হয়েছে। তার ওপর এই মৌসুমে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোরো সংগ্রহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগকে অনুরোধ জানাই। পাশাপাশি ধান ঘরে তুলতে কৃষি শ্রমিকদের অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাই।’
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ধান কাটতে আরও ২০-২৫ দিন লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে নীলফামারী থেকে যারা অন্য জেলায় ধান কাটতে গেছেন তারা ফিরে আসবেন। এছাড়াও ১৯টি হারভেস্টার মেশিন আমাদের আছে। আরও ১০টি মেশিন প্রক্রিয়াধীন আছে। ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে কৃষকদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। আশা করি, শ্রমিক সংকট হবে না। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’