রবিবার সকাল ১১ টায় হিলি স্থলবন্দরের অদূরে ডাঙ্গাপাড়াতে অবস্থিত মেসার্স আরনু জুট মিলের সামনে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে মিলের সামনে থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।
জুটমিলে কর্মরত শ্রমিকরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে গত ২৬ র্মাচ থেকে মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক চুক্তিতে এতদিন তারা বেতন পেয়ে আসছিলেন। মিল বন্ধের সময় কে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু এবং ১ কেজি সয়াবিন তেল দেওয়া হয় তাদের। একইসঙ্গে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, প্রতি সপ্তাহে তাদের খাবার দেওয়া হবে। এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে নেয় মিল কর্তৃপক্ষ।
এখন মিল বন্ধ শ্রমিকদের ঘরেও কোনও খাবার নেই, মিল কর্তৃপক্ষও কোনও সহযোগিতা করছেনা। মিল বন্ধের সময় অর্ধেক বেতন দিলেও বাকিটা দেয়নি মিল কর্তৃপক্ষ। একারণেই শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও মিল চালুর দাবিতে এসেছেন।
শ্রমিকরা আরও জানান, আজকে বিল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে আসলেও আবার কালকের কথা বলে তাড়িয়ে দিলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল ১১টা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত মিলের সামনে তারা বিক্ষোভ করেন।
হাকিমপুর থানার এসআই আব্দুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমরা সংবাদ পাই যে আরনু জুটমিলের শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে মিলের কার্যক্রম শুরু হবে ও তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার কথা বললে আমরা শ্রমিকদের বিষয়টি বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।
মেসার্স আরনু জুটমিলের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমাদের জুটমিলে নারী পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৮শ’ শ্রমিক কাজ করে। করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় আমাদের আরনু জুটমিলও বন্ধ রয়েছে। মিল বন্ধ থাকার কারণে শ্রমিকদের একটা বিল বকেয়া আছে। যেহেতু আমাদের এই জুটমিলটি শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান। ভারতেও লকডাইন চলছে ফলে আমরা কোনও মালামাল ভারতে পাঠাতে পারিনি এবং কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এ কারণেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পারিনি। মিলের শ্রমিকরা দাবি জানিয়েছেন হয় কাজ দেন না হয় টাকা দেন বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যেই মিল চালু হবে সেই সঙ্গে তাদের বকেয়া বিলও পরিশোধ করা হবে।