তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন– কোটালীপাড়া থানার পরিদর্শক মো. জাকারিয়া ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী।
জানা গেছে, কোয়ারেন্টিনের নামে গত এক সপ্তাহ যাবৎ লোপাকে শুকিয়ে যাওয়া পুকুরের মধ্যে তালপাতার ছাপড়া ঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়। একটি দুষ্ট চক্র তাকে একাকী এভাবে থাকতে বাধ্য করে। বিষয়টি গণমাধ্যম এবং সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রশাসনও নড়েচড়ে বসে। সেখানে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহফুজুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুশান্ত বৈদ্য। তারা তার খোঁজ খবর নেন এবং তাকে বাড়ির অন্য একটি ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলে আসেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনারও প্রতিশ্রুতি দেন ইউএনও।
এদিকে, বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিতে ওই এলাকার একটি প্রভারশালী মহল ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তারা ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে যে, তিনি নিজের ইচ্ছায় ওই পুকুরের মধ্যে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকাল তিনি (লোপা) একভাবে বলেছেন, আর আজ ভিন্নভাবে বলছেন। তদন্তকারী দল সবকিছু বিবেচনায় এনে তারপর তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে চাকরি করতেন এই নারী স্বাস্থ্যকর্মী। করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দিয়ে দেয়। ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বাড়িতে আসার পর সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে এলাকাবাসী তাকে কোয়ারেন্টিনের নামে বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরের একটি নির্জন স্থানে পুকুরের ভিতর তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানে রাখে।