যে হাতে সবসময় থাকে ডাস্টার, চক বা কলম সেই হাতে কাঁচি নিয়ে দরিদ্রদের ক্ষেতের ধান কাটতে নেমেছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সরকারি শেখ রাসেল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈ।
এলাকার দরিদ্রদের ধান যতদিন মাঠে থাকবে ততদিন তিনিও তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়ে ধান কাটতে মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন ।
মঙ্গলবার অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈ তার কলেজের শিক্ষক, কর্মচারীদের নিয়ে কলাবাড়ি বিলে গিয়ে দরিদ্র কৃষক সমর হালদারের এক বিঘা জমির ধান কেটে দেন।
কৃষক সমর হালদার বলেন, কয়েক দিন আগেই আমার জমির পাকা ধান কাটার উপযুক্ত হয়েছে। কিন্তু ,করোনাভাইরাসের কারণে এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় ধান কাটতে পারছিলাম না। এ কথা জানার পর অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈ তার কলেজের শিক্ষক, কর্মচারীদের নিয়ে আমার একবিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছে। এই ধান কেটে দেওয়ায় আমার অনেক উপকার হয়েছে।
অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈ বলেন, আমি একজন কৃষকের ছেলে। কৃষকের রক্ত আমার শরীরে বইছে। কাঁচি হাতে নিয়ে ধান কাটার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই আছে। করোনার কারণে বর্তমানে ব্যাপক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আমি আমার শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়ে দরিদ্র মানুষদের বিনা পারিশ্রমিকে ধান কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে আমাদের কলেজ বন্ধ রয়েছে। তাই যতদিন মাঠে ধান থাকবে ততদিন দরিদ্র কৃষকদের ধান কেটে দিতে আমরা মাঠে থাকবো।