প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেলা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এবার ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন একদল নারী। ৩০ সদস্যের ওই নারী শ্রমিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে আজ সোমবার (৪ মে) থেকে জমিতে ধান কাটা শুরু করেছেন।
করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক না আসতে পারায় ধান কাটা নিয়ে সংকটে পড়েছে কৃষক। এ কারণে কৃষকের ধান ঘরে তুলতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহাফুজুর রহমান নিয়েছেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। ‘চাষীর হাসি সেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজে শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশন শুরু করেছেন তিনি। যারা তালিকাভুক্ত হবেন তারা কৃষকের ধান কাটবেন।
কোটালীপাড়া উপজেলার বাগান উত্তর পাড়া গ্রামের শিলা বাড়ৈর নেতৃত্বে ৩০ জন নারী ‘চাষীর হাসি সেল’-এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ধান কাটা শুরু করেন।
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. মিলন, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার কৃত্তিবাস পান্ডে, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বিকাশ সরকার উপস্থিত ছিলেন।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষ এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কর্মক্ষম যুবসমাজের একটি বড় অংশ বর্তমানে বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেরই বর্তমানে কোনও আয়-রোজগার নেই। জমানো টাকাও শেষ হওয়ার পথে। ভবিষ্যৎ চিন্তায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
এমন কর্মহীনদের মধ্যে কারও কারও হয়ত আর্থিক দৈন্যতা নেই; তবে জাতির এ দুঃসময়ে মানুষের জন্য কিছু করার তীব্র বাসনা ও মানসিকতা রয়েছে। তাই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা চিন্তা করে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি কয়েকটি মোবাইল নম্বর, ফেসবুক পেজ অথবা সরাসরি যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন কোটালীপাড়ার বোরো চাষিদের। চাষির হাসি সেল নম্বরগুলো হলো-০১৭৩৪৭০৫০৯৯, ০১৭৪৫৩৮৭১৩৫, ০১৯১৮৬৮৩২৬৫।
এছাড়া ফেসবুক পেজ- চাষির হাসি সেল অথবা সরাসরি কক্ষ- ৩১২, উপজেলা পরিষদ ভবন, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জে যোগাযোগ করা যাবে বলে তিনি জানান।
অবশ্য, নারীদের ধান রোপণ ও ধান কাটার ঘটনা নতুন কিছু নয়। দেশের উত্তরবঙ্গের প্রায় এলাকাতেই পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের ধান রোপণ, ধান কাটাসহ মাঠের বিভিন্ন কাজে নিয়মিতই দেখা যায়। অন্যান্য সবজি ও ফসল ফলানোর বেশ কিছু কাজেও নারীরা সবসময় অংশগ্রহণ করে থাকেন।