নীলফামারীতে শিশুসহ আরও ৬ জনের করোনা শনাক্ত

করোনাভাইরাসনীলফামারীর ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিডওয়াইফ ও এক শিশুসহ আরও ছয় জনের নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে এ নমুনা রিপোর্ট হাতে পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট ৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. রণজিৎ কুমার বর্মণ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সিভিল সার্জন জানান, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রের রিপোর্টে নতুন করে করোনায় আক্রান্তের এই তথ্য পাওয়া যায়।

আক্রান্তরা হলেন– সৈয়দপুর শাখা ইসলামী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা, তাদের একজনের স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শ্যালিকা এবং এক মিডওয়াইফ। মিডওয়াইফের বাড়িও সৈয়দপুরে।  

এলাকাবাসী জানান, তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিডওয়াইফকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে না রেখেই আইসোলেশনে রাখার দাবি করছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্ত মিডওয়াইফ সরকারি কোয়ার্টারের দ্বিতল ভবনটিতে থাকতেন। নিচতলার ভবনটি এবং আশেপাশের কোয়ার্টার, লকডাউন ঘোষণা না করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলছেন, এতে ছড়াতে পারে করোনা সংক্রমণ।

সরেজমিনে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ওই মিডওয়াইফকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের একজন কর্মচারীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘তিনি (মিডওয়াইফ) এখানে নেই, তার সরকারি কোয়ার্টারে আছেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকার অন্য কোয়ার্টারে বসবাসকারীসহ আশেপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।’

ডিমলা মেডিক্যাল মোড়ের বাসিন্দারা বলেন, ‘আসলে আমাদের এলাকার মানুষ সহজ সরল বলেই অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তারা আইওয়াশ করিয়ে যা বলেন ও বোঝান আমরা তাই যাচাই-বাছাই না করে সহজে মেনে নিই। ওই মিডওয়াইফকে সরকারি কোয়ার্টারে এভাবে রাখলে গোপনে হলেও তার আত্মীয়-স্বজন, অন্য কোয়ার্টারের বসবাসকারীরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তিনি নিজেও সুযোগ বুঝে বাইরে বেরিয়ে অন্যের সংস্পর্শে এসে মারাত্মকভাবে সংক্রমিত করতে পারেন।’ ওই মিডওয়াইফকে দ্রুত আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সারোয়ার আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তদন্ত সাপেক্ষে ওই মিডওয়াইফকে দ্রুত আইসোলশনে নেওয়া হবে।’

বুধবার (৬ মে) সকালে সিভিল সার্জন ডা. রণজিৎ কুমার বর্মণ বলেন, ‘করোনা শনাক্ত হলে সে যেই হোক নিয়ম অনুযায়ী তাকে আইসোলনে থাকতে হবে।’

তিনি জানান, জেলায় করোনা শনাক্ত হওয়া ৩৩ জনের মধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ ছাড়া জেলার কিশোরগঞ্জের একজনের পজিটিভ রিপোর্ট আসার আগেই মারা গেছেন।