হবিগঞ্জে ১৭০০ কেজি চাল জব্দ, হদিস নেই ৩০০ কেজির

হবিগঞ্জহবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মখলিছ মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি চাল বিতরণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার হেফাজত থেকে চলমান করোনা সংকটে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৭০০ কেজি চাল জব্দ করা হয়েছে। আরও ৩০০ কেজি চালের হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে টিপসই নিলেও ভিজিডি কর্মসূচির চাল না দিয়ে তা তসরুফের অভিযোগেরও সত্যতা মিলেছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাত রানার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করে এবং অভিযোগের সত্যতা পান। অভিযানের খবর পেয়ে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে যান ইউপি চেয়ারম্যান মখলিছ মিয়া। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাত রানা জানান, গত ২/৩ মাস ধরে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়ম করছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মখলিছ মিয়া। সুবিধাভোগীদের নাম তালিকায় রয়েছে, তাদের টিপসইও রয়েছে। কিন্তু তারা চাল পাননি। এছাড়া চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রতি বস্তায় তিনি ৯ কেজি করে চাল ঢুকিয়ে রাখেন। এসব চালও বণ্টন না করে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। দুই হাজার কেজি চাল ওই ইউনিয়নে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৭০০ কেজি পাওয়া গেলেও ৩০০ কেজির কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। পরে ১৭০০ কেজি চাল জব্দ করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।।

চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এবং মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ এর ৬ (৫) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান মখলিছ মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাত।

তবে চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মখলিছ মিয়া। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কোনও অনিয়ম করিনি। ৩০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে।’ চাল লোড করার সময় ভাড়াবাবদ ট্রাকের চালক-হেলপারদের টাকার পরিবর্তে দুটি করে চালের বস্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।