খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় দেখ লাখ মানুষের বসতি। এখানকার ৩৫ হাজার পরিবারের মধ্যে পৌর এলাকায় ২৪শ’ পরিবারের জন্য তিন জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ছয়টি ইউনিয়নে চার হাজার ৬৪৭ দরিদ্র পরিবারকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করা হয়। প্রত্যেক ইউনিয়নে দুজন করে ডিলার এই চাল সরবরাহ করছেন। পৌর এলাকায় সরবরাহকৃত চাল খাবার উপযোগী হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ের চাল দুর্গন্ধ ও সাদা পাউডারের আবরণযুক্ত। বছরে মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হলেও করোনার কারণে মে মাসেও এই চাল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, সরবরাহকৃত মোটা চালে দুর্গন্ধ আর পাউডার মিশ্রিত। একাধিকবার পানি দিয়ে ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থেকেই যায়। পরিবারের বড় মানুষগুলো কষ্টেসৃষ্টে এই চালের রান্না করা ভাত খেতে পারলেও শিশু-কিশোরদের খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এই চাল পুকুর মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আর ওই চাল পুকুর মালিকরা কিনে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
উপজেলা খাদ্য অফিসের দাবি, চালগুলো দীর্ঘ সময় গুদামে বন্দি থাকে। কিছুটা গন্ধ হতে পারে। আর কর্মসূচির চাল ঠিকাদাররা খাদ্যগুদাম থেকে সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রকারের ভিটামিন ও মিনারেল মেশায়। তারপর সেই চাল ডিলারদের কাছে পৌঁছায়। এতে ভিটামিনের কারণে গন্ধের তীব্রতা হতে পারে। তবে পুষ্টিকর চাল হওয়ায় সবাইকে খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ডিলার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুবিধাভোগীরা এমন অভিযোগ করছেন। কিন্তু আমরা তো ঠিকাদারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা চাল বিতরণ করি।’
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক বলেন, ‘আমরা সব সময় চাই হতদরিদ্রদের চাল যেন খাওয়ার উপযোগী হয়। কিন্তু যে চাল পাচ্ছেন সেটা দুর্গন্ধ। ভালো মানের চাল বিতরণ করা না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কোনও ক্ষমতা নেই।’
ভাঙ্গুড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, প্রায় নয় মাস আগে খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। কিছুটা গন্ধ ও পাউডারের আবরণ থাকতে পারে। তবে সামনের কর্মসূচিগুলোতে ভালো চাল সরবরাহ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইরিন আফরোজ জানান, খাদ্যগুদামের মজুদ করা চালে ভিটামিন ও মিনারেল মিশ্রণের কারণে একটু গন্ধ হতে পারে। তবে এটা খুবই পুষ্টিকর চাল। কিন্তু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে দুর্গন্ধের ব্যাপারে দু-একজন জানালেও ব্যাপক পরিসরে কেউ অভিযোগ করেনি। তাই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।