চা শ্রমিকের সন্তানদের চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন

প্রতাপ বাউরী-রুমা বাউরী দু’জনের বয়স ছয় অথবা সাত হবে। ওরা মাজডিহি চা বাগানের শ্রমিক সন্তান। যুদ্ধ দেখেনি ওরা। তবু যুদ্ধের গল্প শুনে উত্তেজনায় টগবগ করে ওদের রক্ত।

বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের মুক্ত অনুষ্ঠানে সম্মুখ যুদ্ধের অভিনয় করে পুরস্কার অর্জন করেছে প্রতাপ। আর রুমা গেয়েছে দেশের গান। পুরস্কার নিতে এসে প্রতাপ জানালো,‘স্যার আমি মাস্টার মশাই হইমু। হ্যামদের তো ইসকুল নাই। হামি ইসকুল বানাইমু।’ পুষ্টিহীনতার শিকার রুমার পান্ডুবর্ণের মুখেও তখন ভবিষ্যৎ জয়ের প্রত্যাশা। একদিন সে ডাক্তার হবে এমন স্বপ্নে বিভোর। রুমা জানায়, ‘হামি ডাক্তার আপা হইমু, ঘরে ঘরে যাইয়া ঔষধ খিলাইমু।’

১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের ৪৪ বছর উদযাপন উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাজডিহি চা বাগানে বর্ণকুঁড়ি শিশু পাঠশালা আয়োজিত বিজয় উৎসব অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণকালে কোমলমতি প্রতাপ ও রুমা এভাবেই জানায় তাদের স্বপ্নের কথা।

ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির মৌলভীবাজার ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনহার আহমদ সমশাদ, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কবি সূর্য্য দাস তপন, বর্ণকুঁড়ির শিক্ষিকা রোকসানা আক্তার, রণি সরকার প্রমুখ।

বহুযুগ ধরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বৈষ্যমের শিকার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী। এখনও মাত্র ৪৮ টাকায় এসব শিশুর পিতা-মাতারা নিত্যদিন কায়িক শ্রমে বিলিয়ে দিচ্ছে মাথার ঘাম। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এসব পরিবারের সন্তানেরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা বঞ্চিত হলেও আশায় আছে একদিন তাদের এ অবস্থার বদল হবে।

/টিএন/