করোনার উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জেলায় ৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে চাঁদপুরেই মারা গেছেন তিন জন। এদের কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কেউ কেউ বাড়িতে মারা গেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত জানানো হলো।
গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে দু’জন মারা গেছেন। তারা হলেন, কাশিয়ানীর আশরাফুজ্জামান বাবু (৪০) ও মুকসুদপুরে আক্কাস আলী খান (৬১)।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গভীর রাতে কাশিয়ানীর পোনা গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান বাবু।
শুক্রবার (১৯ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহম্মেদ জানান, শ্বাসকষ্ট, সর্দি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা থেকে গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন ওই ব্যক্তি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে মারা যান।
ইউএনও জানান, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মরদেহ দাফনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়েছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আক্কাস আলী। মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রহমান জানান, কয়েকদিন আগে আক্কাস আলীর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি ১৫ জুন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়ে আসেন। এরপর বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর জানা গেছে তার রিপোর্ট পজিটিভ ছিল।
তিনি আরও জানান, করোনায় মারা যাওয়া ও ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের হোম কেয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া
করোনায় আক্রান্ত হয়ে বগুড়ায় আবু রেজা খলিলুর রহমান (৫৮) নামে এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। বুধবার (১৭ জুন) রাতে তিনি শহরের ঠেঙ্গামারা এলাকায় টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে মারা যান।
হাসপাতালের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহিম রুবেল জানান, আবু রেজা শ্বাসকষ্ট নিয়ে ১৫ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন। নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বুধবার রাতে মারা যান।
চাঁদপুর
চাঁদপুরে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে চাঁদপুর সদরে একজন, হাজীগঞ্জে একজন এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরের একজন।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাজিগঞ্জের বাসিন্দা সুশীল সাহা (৬০) জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার রাত ৮টায় ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান।
চাঁদপুর শহরতলির বাবুরহাট এলাকার লাভলী আক্তার (৩০) জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাত সাড়ে ১১টায় হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টায় মারা যান।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন (৬০) জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় মারা যান।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা গেছেন ৬০ বছরের এক অজ্ঞাত নারী। বুধবার তিনি মারা গেছেন। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ বলেন, ৬ জুন এক ব্যক্তি ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে তাকে কেউ তাকে দেখতে আসেননি। ভর্তির সময় তার স্বামীর নাম ইকবাল হোসেন লেখা হয়। তার সাথে যোগাযোগ করতে যে মোবাইল নম্বর ছিলো সেটি সুমন মোল্লা নামের এক ব্যক্তির। লাশ কেউ না নেওয়ায় তার লাশ দাফন করা হয়েছে।
ফেনী
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। বুধবার বিকালে তিনি ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ভূঞা জানান, জ্বর, কাশি নিয়ে ওই ব্যক্তি রবিবার হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বুধবার বিকালে তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার জানা যায়, তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন।