দীপু বালার স্বামী ও বাবার বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের আস্কর গ্রামে। স্বামী অশ্বিনী বালা চার বছর আগে মারা গেছেন। তাদের কোনও সন্তান নেই। মানুষের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন দীপু বালা। তিনি বলেন, বরিশাল নগরীর কাটপট্টি রোডের ধীরেণ সিকদারের বাসায় কাজ করতাম। ওই বাসায় কর্মরত অবস্থায় শরীরে দুর্বলতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হলে ধীরেণ সিকদার ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ কিনে আমার ভাইয়ের ছেলেদের কাছে পাঠিয়ে দেন।
তিনি আরও জানান, কিন্তু সোমবার তার ভাই মনোরঞ্জন সাহার ছেলে মিথুন সাহা তাকে ফেলে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বাসস্ট্যান্ডে রেখে যায়।
স্থানীয় সংবাদকর্মী তপন বসু জানান, নড়াচড়া করতে না পেরে অসহায় অসুস্থ বৃদ্ধা সড়কের ওপরেই শুয়ে পড়েন। সাড়ে বারোটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত অপেক্ষার পরেও দেখা মেলেনি মিথুনের। বৃষ্টি আসন্ন দেখে স্থানীয় সাংবাদিকেরা বৃদ্ধা দীপু বালাকে সড়কের একটি হোটেলের বারান্দায় নিয়ে বসান। এক পর্যায়ে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানাকে অবহিত করলে উপজেলা প্রশাসনের কোনও লোক এগিয়ে না আসলেও ওসির নির্দেশে পুলিশের এসআই শাহজাহান তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। এরপর আসেন ওসি আফজাল হোসেন। তিনি হাসপাতালে অসুস্থ বৃদ্ধার চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তাসহ অন্যান্য সেবার ব্যবস্থা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন জানান, বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বৃদ্ধার করোনা উপসর্গ নেই, তবে তার করোনা পরীক্ষা করানো হবে।
ওসি আফজাল হোসেন বলেন, করোনা মোকাবিলায় মানুষের বিবেক জাগ্রত হওয়া দরকার। মানবিকতা বিবর্জিত হলে মহামারি সংকট আরও বাড়বে। বৃদ্ধার ভাইপোর অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।