দুই পক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম




মাগুরা



 

দুই পক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

মাগুরায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এক কর্মীকে কুপিয়ে শরীর থেকে পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে প্রতিপক্ষের কর্মীরা। মাগুরার শালিখার নাঘোষা গ্রামে সোমবার (১৭ আগস্ট) এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অন্তত পাঁচ জন। এ সময় একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নাঘোষা গ্রামসহ তালখড়ি ইউনিয়নে বাসিন্দারা দুইটি সামাজিক দলে বিভক্ত। একপক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. বীরেন শিকদার ও অপর পক্ষ উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হেসেনের সমর্থক। সম্প্রতি এমপি সমর্থিত কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকদের পক্ষে যোগ দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার এক পর্যায়ে সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থক আকরাম, আলমের নেতৃত্বে এমপি সমর্থক খলিলুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এসময় তারা খলিলুর রহমানের বাম পা ধরালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ ঘটনায় আরও ৪-৫ জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলাকারীরা ২-৩ টি বাড়িঘরও ভাঙচুর করে।

তবে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু ঘটনাকে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বলেননি। তিনি বলেন, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগে কোনও বিভেদ নেই। এ ধরনের ঘটনা এলাকার সামাজিক দলাদলির ফল। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। আশা করি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করেছে। পুলিশ খলিলুর রহমানসহ আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আতিয়ার রহমান (৫৫), মহিদুল ইসলাম (৫০) ও আসাদুল (৫২) নামে তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে খলিলুর রহমানের পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে বাম পায়ের মাংসসহ গোটা রগ কেটে চামড়ায় বেধে থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।