বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুঁনাইগাছ ইউনিয়নের কৃষ্ণমঙ্গল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিবালোকে ১৩ বছরের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটির বাবা ও দাদিকে মারধরও করে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা। উপায় না পেয়ে মেয়েকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে উলিপুর থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
ভিকটিম শিশুর বাবা জানান, তার পাশের বাড়ির বাসিন্দা নুর আলমের ছেলে কলেজছাত্র সোহেল রানা একাধিকবার তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় গত জানুয়ারি মাসে থানায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তের নামে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আট মাসেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি। এরমধ্যে সোহেল রানা বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতেও তার শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে। এতে মেয়ের দাদি বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় সোহেল রানা। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকালে সোহেল রানা তার বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা করে মেয়ের বাবা ও দাদিকে মারধর করে এবং জোর করে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগী শিশুকে নিয়ে এলাকা ত্যাগ করে অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সোহেল রানা বলে, আজকেই বিয়া করবো। দেখি কে ঠেকায়, পুলিশ কী করে।’ এর আগে পুলিশকে বারবার বলার পরও সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই বাবা আরও বলেন, ‘আমার অবুঝ মেয়েকে ওই ছেলে নানাভাবে ফুসলিয়ে ক্ষতি করছে। আমার বারো-তেরো বছরের মেয়ে। ওর এখনও সংসার করার বয়স হয় নাই। আমার মেয়েকে আমি ফেরত চাই। সোহেল রানা ও তার পরিবারের লোকজনদের বিচার চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমার সংসারে আমি একাই পুরুষ মানুষ। অটো চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাতে হয়। সোহেল রানার পরিবারের শক্তির কাছে আমি একা অসহায়।’
এদিকে মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে এই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা হয় (মামলা নম্বর ২২, তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২০)। ওই মামলার চাজশিটভুক্ত আসামি সোহেল রানা।
স্থানীয়রা জানান, শিশু ধর্ষণের অভিযোগ থাকলেও দিব্বি দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতো সোহেল। মামলা থেকে রেহাই পেতে সোহেল রানার পরিবার শিশুটিকে উঠিয়ে নিয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি জানিয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘শিশুটির বাবা থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর রয়েছি।’
অভিযুক্ত সোহেল রানা ধর্ষণ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি স্বীকার করে ওসি বলেন, ‘সে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। সে যখন বাড়িতে আসতো তখন আমাদের খবরও দেয়নি ভুক্তভোগী পরিবার। তবে আমরা এখন বিষয়টা দেখছি।’